পাহাড়, ঝরনা এবং এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে গঠিত রাঙামাটি জেলা বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। এই জেলার প্রধান আকর্ষণ হলো ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ মনোরম ঝুলন্ত সেতু, যা ‘সিম্বল অফ রাঙামাটি’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কাপ্তাই হ্রদের শান্ত ও নীল জলরাশির ওপর দিয়ে বোট বা ট্রলারে নৌ-ভ্রমণ পর্যটকদের এক অনন্য ও প্রশান্তিময় অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
এছাড়া পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা শুভলং ঝরনার শীতল ধারা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত সাজেক ভ্যালির মেঘের মিতালি পর্যটন প্রেমীদের বারবার এই পাহাড়ি জনপদে টেনে আনে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি রাঙামাটিকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ায় বর্তমানে রাঙামাটিতে আধুনিক মানের অনেক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, যা ভ্রমণকে অনেক বেশি আরামদায়ক ও সহজতর করছে। স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন রাজবন বিহার এবং ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চাকমা রাজবাড়ি পর্যটকদের ইতিহাসের কাছে নিয়ে যায়।
কেনাকাটার ক্ষেত্রে এখানকার তাঁতের তৈরি কাপড় এবং বাঁশ-বেতের তৈরি শোপিস পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। শহরের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং পাহাড় ও হ্রদের অসাধারণ মিলনমেলায় নিজেকে সঁপে দিতে রাঙামাটির কোনো বিকল্প নেই। তবে পাহাড়ের এই অমূল্য প্রকৃতি রক্ষা করতে ভ্রমণে প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষিত না করার বিষয়ে সচেতন থাকাও আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব।
রিপোর্টারের নাম 
























