জাতীয় আইন সহায়তা দিবসের প্রেক্ষাপটে ঢাকার সরকারি আইনি সহায়তা কেন্দ্রের (লিগ্যাল এইড) বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, আইনি সহায়তা নিতে আসা মোট সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ৭৫.৫৬ শতাংশই নারী, অর্থাৎ প্রতি চারজনের মধ্যে তিন জনই নারী। লিলি বেগমের মতো অসংখ্য নারী স্বামী কর্তৃক ভরণপোষণ না দেওয়া, পারিবারিক নির্যাতন কিংবা যৌতুক সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে শেষ আশ্রয় হিসেবে এই দপ্তরে ভিড় করছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ হাজার ৪৫৮ জন সেবাগ্রহীতার মধ্যে ২ হাজার ৬১৩ জনই নারী, যেখানে পুরুষের সংখ্যা ৮৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৮ জন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইনি সংকটে পড়া নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হারে সরকারি সহায়তার দ্বারস্থ হচ্ছেন।
লিগ্যাল এইডের গত এক বছরের মামলা পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ২ হাজার ১৪২টি মামলার মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশই (১ হাজার ৪২৬টি) পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে ১৮.৪৮ শতাংশ ফৌজদারি এবং ১৪.৯৪ শতাংশ দেওয়ানি প্রকৃতির। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পারিবারিক মামলাগুলোর সিংহভাগই দেনমোহর আদায়, খোরপোশ বা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কেন্দ্রিক। তবে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ বা এডিআর-এ বিশেষ সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালে মামলা-পূর্ব ৭৯৯টি বিরোধ সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আদালতে বিচারাধীন ১৩১টি মামলার মধ্যে ৪৪টি আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ আইনি লড়াই ছাড়াই প্রায় সোয়া কোটি টাকারও বেশি পাওনা বুঝে পেয়েছেন, যা মূলত অসহায় নারীদের প্রাপ্য দেনমোহর ও খোরপোশের টাকা।
লিগ্যাল এইড কার্যালয় বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য একটি আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। নিয়মিত আইনজীবীদের মতে, এখানে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীরা বিনা খরচে এবং স্বল্প সময়ে সরাসরি বিচারকের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে কারাগার থেকে প্রায় ২ হাজার ৯৬৩ জন কারাবন্দির আইনি সহায়তার আবেদন এই দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের এক ভুক্তভোগী নারী জানান, বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেও যা সম্ভব হয়নি, লিগ্যাল এইডে মাত্র একটি তারিখের মধ্যে তিনি তার পারিবারিক সমস্যার সমাধান পেয়েছেন। বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ থেকে শুরু করে মামলা পরিচালনা—সবক্ষেত্রে এই দপ্তরের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অসহায় নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
রিপোর্টারের নাম 























