ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মাঝের ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিল বাংলাদেশ

প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৭৭ রান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ উইকেটে ১০৬ রান। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিতে হলে মাঝের ওভারে দারুণ খেলার কোনো বিকল্প ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশ সেই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। ৮ ওভারে ওই ১০৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ফেলে তারা। অর্থাৎ, ওভারপ্রতি ১৩.২৫ রান করে তুলে স্বাগতিক ব্যাটাররা প্রমাণ করেছে মাঝের ওভারে তাদের ব্যাটিং কতটা আক্রমণাত্মক ছিল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ হৃদয় বলেন, ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’ – এই চিন্তা নিয়েই তারা মাঠে নেমেছিলেন।

সেই চিন্তা যে মাঠে কতটা প্রয়োগ করেছেন, তা স্পষ্ট তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিংয়েও। ২৭ বলে ৫৮ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ২ চার ও ৩ ছক্কা। ৭৭ রানে তিন উইকেট পতনের পর এমন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার কারণ জানতে চাইলে হৃদয় বলেন, ‘আসলে পরিকল্পনা ছিল ওই পরিস্থিতিতে দলের চাহিদা কী ছিল, রান দরকার ছিল। রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল আক্রমণ করে খেলব। কারণ, ওখানে যদি আক্রমণ না করতে পারি, তাহলে হয়তো দলের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু আক্রমণ করে খেলা যায়।’

মিডল অর্ডারে ভালো করলেও টপ অর্ডার দলকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেনি। একরকম সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুলেছেন হৃদয়। তিনি টপ অর্ডারকে দায় দিতে নারাজ, বরং নিজেদের দায়িত্ব নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, সেই সময়ে আগ্রাসী ক্রিকেটই দলের জন্য সেরা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘দুই ওভার যদি ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নিই, তাতে টি-টোয়েন্টি খেলা এদিক-ওদিক যায়। আমি ওইটাই চেষ্টা করেছি ওই সময়টা যতটুকু আক্রমণাত্মক খেলা যায়। ওই সময়ে অ্যাটাকিং অপশনটাই সবচেয়ে সেরা ছিল দলকে জেতানোর জন্য।’

যে আত্মবিশ্বাস আর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গতকাল ম্যাচ জিতেছে, ঠিক তেমন পরিস্থিতিতে বহুবার হারের রেকর্ডও আছে। তবে অভিজ্ঞতার বিচারে এই ম্যাচগুলো জেতানো দরকার। ম্যাচ জেতাতে না পারলে তা তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দিতো, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘এরকম ম্যাচ যদি না জেতাতে পারি, তাহলে এটা আমাদের জন্য ভালো দিক না। ব্যাটার হিসেবে এসব দায়িত্ব…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরের মতলবে মাদকবিরোধী সমাবেশ

মাঝের ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৭৭ রান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ উইকেটে ১০৬ রান। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিতে হলে মাঝের ওভারে দারুণ খেলার কোনো বিকল্প ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশ সেই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। ৮ ওভারে ওই ১০৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ফেলে তারা। অর্থাৎ, ওভারপ্রতি ১৩.২৫ রান করে তুলে স্বাগতিক ব্যাটাররা প্রমাণ করেছে মাঝের ওভারে তাদের ব্যাটিং কতটা আক্রমণাত্মক ছিল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ হৃদয় বলেন, ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’ – এই চিন্তা নিয়েই তারা মাঠে নেমেছিলেন।

সেই চিন্তা যে মাঠে কতটা প্রয়োগ করেছেন, তা স্পষ্ট তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিংয়েও। ২৭ বলে ৫৮ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ২ চার ও ৩ ছক্কা। ৭৭ রানে তিন উইকেট পতনের পর এমন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার কারণ জানতে চাইলে হৃদয় বলেন, ‘আসলে পরিকল্পনা ছিল ওই পরিস্থিতিতে দলের চাহিদা কী ছিল, রান দরকার ছিল। রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল আক্রমণ করে খেলব। কারণ, ওখানে যদি আক্রমণ না করতে পারি, তাহলে হয়তো দলের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু আক্রমণ করে খেলা যায়।’

মিডল অর্ডারে ভালো করলেও টপ অর্ডার দলকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেনি। একরকম সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুলেছেন হৃদয়। তিনি টপ অর্ডারকে দায় দিতে নারাজ, বরং নিজেদের দায়িত্ব নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, সেই সময়ে আগ্রাসী ক্রিকেটই দলের জন্য সেরা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘দুই ওভার যদি ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নিই, তাতে টি-টোয়েন্টি খেলা এদিক-ওদিক যায়। আমি ওইটাই চেষ্টা করেছি ওই সময়টা যতটুকু আক্রমণাত্মক খেলা যায়। ওই সময়ে অ্যাটাকিং অপশনটাই সবচেয়ে সেরা ছিল দলকে জেতানোর জন্য।’

যে আত্মবিশ্বাস আর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গতকাল ম্যাচ জিতেছে, ঠিক তেমন পরিস্থিতিতে বহুবার হারের রেকর্ডও আছে। তবে অভিজ্ঞতার বিচারে এই ম্যাচগুলো জেতানো দরকার। ম্যাচ জেতাতে না পারলে তা তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দিতো, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘এরকম ম্যাচ যদি না জেতাতে পারি, তাহলে এটা আমাদের জন্য ভালো দিক না। ব্যাটার হিসেবে এসব দায়িত্ব…’