জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইদোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে রিখটার স্কেলে ৬.২ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার কিছু আগে হোক্কাইদোর দক্ষিণাঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮৩ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। উরাহোরো শহরে কম্পনের মাত্রা জাপানি সিসমিক স্কেলে ‘আপার ৫’ এবং নিইকাপ্পু শহরে ‘লোয়ার ৫’ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, এই ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। জাপান আবহাওয়া সংস্থার একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, এই কম্পন সাম্প্রতিক কোনো বড় ভূমিকম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে, যেসব অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেখানে ভূমিধস ও পাথরধসের ঝুঁকি বেড়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই জাপানের ইওয়াতে উপকূলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার ফলে অন্তত ছয়জন আহত হন এবং উপকূলে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে। জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ এবং এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। দেশটিতে বছরে গড়ে প্রায় ১,৫০০টি ভূমিকম্প হয়, যা বৈশ্বিক ভূমিকম্পের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০১১ সালের ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি আজও জাপানের জন্য এক গভীর ট্রমা, যা প্রায় ১৮,৫০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে একটি গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















