ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

তনু হত্যা মামলার একমাত্র আসামির রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ, বাবার অসন্তোষ

কুমিল্লা: সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অব.) হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে, এই ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেননি। তিনি আরও আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এবং বর্তমান গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াকে ‘পুতুলের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন।

মামলা দায়েরের ১০ বছর পর হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শনিবার কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রিমান্ডে আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কিছু তথ্য পাওয়া গেছে যা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্টের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত বুধবার, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে, সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সাথে নমুনা মেলানো হয়নি। এবারই প্রথম কারো নমুনা ম্যাচিংয়ের জন্য সংগ্রহ করা হলো।

গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা হাফিজুর রহমানকে আটক করে। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে আনা হয়। সেখানে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি বিষয় দৃষ্টিকটু লেগেছে: নাগরিক পার্টির নেতা

তনু হত্যা মামলার একমাত্র আসামির রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ, বাবার অসন্তোষ

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লা: সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার হওয়া আসামি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অব.) হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে, এই ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেননি। তিনি আরও আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এবং বর্তমান গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াকে ‘পুতুলের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন।

মামলা দায়েরের ১০ বছর পর হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শনিবার কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রিমান্ডে আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কিছু তথ্য পাওয়া গেছে যা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্টের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত বুধবার, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে, সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সাথে নমুনা মেলানো হয়নি। এবারই প্রথম কারো নমুনা ম্যাচিংয়ের জন্য সংগ্রহ করা হলো।

গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা হাফিজুর রহমানকে আটক করে। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে আনা হয়। সেখানে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।