জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকায় একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগকর্মী সোলায়মান বাদশা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নিয়েছেন। গত শুক্রবার নগরের ষোলশহর এলাকায় তিনি ১০-১৫ জনকে নিয়ে একটি মিছিল বের করেন এবং তাতে নেতৃত্ব দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সোলায়মান বাদশার বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অপরাধের মামলা থাকা সত্ত্বেও তার মিছিলে অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব দেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা থেকে সোলায়মান বাদশাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সে সময় র্যাব জানিয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট তিনি একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এই ঘটনায় চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন গুরুতর আহত হন এবং তার বাবা কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সোলায়মান বাদশার বিরুদ্ধে আরও নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগরের দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং তিনি ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাছিম উদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ভ্যানগাড়ি বসিয়ে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করতেন সোলায়মান ও তার সহযোগীরা। এছাড়াও, দুই নম্বর গেট, ষোলশহর স্টেশন, তুলাতুলি, সিগনাল এলাকা, আল-ফালাহ গলি ও মেয়র গলিসহ আশপাশ এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, দখল-বেদখল, অপহরণ, অবৈধ গেস্ট হাউস পরিচালনা, অস্ত্র ব্যবসা ও ভাড়াটে খুনের ঘটনায় তার গ্রুপের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতেন না। পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 




















