জ্বালানির ন্যায্য ও খাতভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু বলেছেন, জ্বালানির ন্যায্য ও খাতভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জিএসএ আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানি নীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আব্দুর রশিদ আরো বলেন, অতীতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলন থেকে সরকারকে তার নীতি পরিবর্তনের যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তা সরকার মানেনি। এখনও সরকার যদি এই পরামর্শগুলো না শোনে এবং ভুল নীতি ও দুর্নীতি যদি ঝেঁটিয়ে বিদায় করা না যায়, তাহলে জ্বালানি সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।
জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি মানেই খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, অর্থাৎ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেন তুলনামূলকভাবে সীমিত ও উচ্চ আয়ের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই বাস্তবতায় মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি নীতিগত পরিবর্তন জরুরি। জ্বালানির দাম নির্ধারণ করতে হবে—কোন খাতে তা ব্যবহার হচ্ছে, সেই খাতের জাতীয় উৎপাদনে কী ভূমিকা, সেই খাতের ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, যখন কোনো সংকট হাজির হয় তখনই বিশেষজ্ঞদের কথা বলতে বলা হয়। কিন্তু যখন সংকট থাকে না তখন এই কথাগুলো কেউ শুনতে চায় না। জ্বালানিখাতে বিনিয়োগের সময় ভবিষ্যতে কত টাকা সাশ্রয় করা যাবে, তা আমাদের চিন্তায় থাকতে হবে। শিল্পে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হাসান আশরাফ বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের মডেলের মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আছে, সেখানে যে আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে, সেখানে বিকল্প জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য উৎস খোঁজা উপেক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় আটকে গেছে। জ্বালানি এখন কেবল পণ্য নয়, বরং এটি এখন ক্ষমতা, অভিগম্যতা ও বৈষম্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























