ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে চায়, ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে আগ্রহী, কারণ এর মাধ্যমে তারা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে তাদের আয়ের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন অবরোধ বজায় রাখা ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য। চার দিন আগে অনেকেই তাকে জানিয়েছেন যে, ইরান অবিলম্বে প্রণালী খুলতে চায়। তবে ট্রাম্পের মতে, যদি তারা এটি করে, তবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব হবে না, যদি না তাদের দেশের বাকি অংশ এবং নেতৃত্ব ধ্বংস করা হয়।

পরবর্তী একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি অর্থের জন্য মরিয়া এবং সামরিক ও পুলিশ সদস্যরা বেতন না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছে। ইসলামাবাদে প্রাথমিক আলোচনার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, এই অবরোধ বহাল থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই খার্গ দ্বীপের মজুত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং দুর্বল ইরানি তেলকূপগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের সমুদ্র বাণিজ্য সীমিত করলে তাদের ‘প্রধান আয়ের উৎস’ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গোপন বাণিজ্য বা অর্থায়নের মাধ্যমে এ সব কার্যক্রমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।’

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন, যাতে শান্তি আলোচনার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। বুধবার ভোর পর্যন্ত এ বিষয়ে তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, সংঘাত শেষের প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি ‘আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ঘোষণা আসে।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা এর জন্য দায়ী থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেবে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে চায়, ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে আগ্রহী, কারণ এর মাধ্যমে তারা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে তাদের আয়ের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন অবরোধ বজায় রাখা ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য। চার দিন আগে অনেকেই তাকে জানিয়েছেন যে, ইরান অবিলম্বে প্রণালী খুলতে চায়। তবে ট্রাম্পের মতে, যদি তারা এটি করে, তবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব হবে না, যদি না তাদের দেশের বাকি অংশ এবং নেতৃত্ব ধ্বংস করা হয়।

পরবর্তী একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি অর্থের জন্য মরিয়া এবং সামরিক ও পুলিশ সদস্যরা বেতন না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছে। ইসলামাবাদে প্রাথমিক আলোচনার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, এই অবরোধ বহাল থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই খার্গ দ্বীপের মজুত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং দুর্বল ইরানি তেলকূপগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের সমুদ্র বাণিজ্য সীমিত করলে তাদের ‘প্রধান আয়ের উৎস’ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গোপন বাণিজ্য বা অর্থায়নের মাধ্যমে এ সব কার্যক্রমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।’

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন, যাতে শান্তি আলোচনার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। বুধবার ভোর পর্যন্ত এ বিষয়ে তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, সংঘাত শেষের প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি ‘আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ঘোষণা আসে।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা এর জন্য দায়ী থাকবে।