ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি। সমালোচকরা এই ঘটনাকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ এবং সংখ্যালঘুদের গণহারে ভোটাধিকার হরণ বলে অভিহিত করেছেন। বিতর্কিত নির্বাচনি সংশোধনের পর এই ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াটি ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) নামে পরিচিত। কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার এটিকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ভোটদান ঠেকানোর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা মূলত অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ তাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, তবুও তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন, যা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলেছে, তার আগে অভূতপূর্ব গতিতে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এটিকে ‘সাংবিধানিক অপরাধ’ এবং ‘ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, এটি ভারতের ইতিহাসে একটি কেলেঙ্কারি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে এবং ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংস্থার মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিপীড়নের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















