ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, এখনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তারা সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লিখিত বক্তব্যে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমায়ুন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং হাজার হাজার প্রার্থী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পার হলেও নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর মেডিক্যালসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও দুই মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

প্রার্থীরা আরও বলেন, তারা ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তবে, এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাননি। তারা আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ সময় দেবব্রত সরকার নামের এক প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু নিয়োগ না হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তা দূর করার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১০:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, এখনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তারা সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লিখিত বক্তব্যে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমায়ুন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং হাজার হাজার প্রার্থী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পার হলেও নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর মেডিক্যালসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও দুই মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

প্রার্থীরা আরও বলেন, তারা ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তবে, এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাননি। তারা আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ সময় দেবব্রত সরকার নামের এক প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু নিয়োগ না হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তা দূর করার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।