গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আহসান কম্পোজিট কারখানার শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যাতে পুলিশ, কারখানার কর্মকর্তা এবং শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে কারখানার সামনে শ্রমিকরা বার্ষিক ছুটির বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিলেও শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক বকেয়া টাকা পরিশোধের দাবি জানায়। এরপর শ্রমিকরা কারখানার অফিসে ঢুকে আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাঙচুর করে। এ সময় শ্রমিকদের বাধা দিতে গেলে সাতজন কর্মকর্তা আহত হন।
খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প-১ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এর ফলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে ১১ জন শ্রমিক ও ৩ জন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে, যার ফলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
কারখানার শ্রমিক বারেক মিয়া জানান, তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে কেন নতুন করে মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। আরেক শ্রমিক রমিজ আলী অভিযোগ করেন, পুলিশ বকেয়া বেতনের বিষয়টি না দেখে তাদের উপর চড়াও হয়েছে এবং গুলি ছুড়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, বার্ষিক ছুটির বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে উত্তপ্ত হয়েছিল। শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষে ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















