ঘরোয়া ক্রিকেটে রান পেলেও আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিজেকে মেলে ধরতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন আফিফ হোসেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তার মন্থর ব্যাটিং দলের পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ম্যাচটিতে ৪৯ বল মোকাবিলা করে মাত্র ২৭ রান করেন আফিফ, যেখানে ছিল না কোনো বাউন্ডারির মার। তার এমন ‘টেস্ট সুলভ’ ব্যাটিংয়ের কারণে সহজ সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
আফিফ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৩৬ বলে ১১৬ রান। হাতে ছিল পর্যাপ্ত উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে শুধু স্ট্রাইক রোটেট করে খেললেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল। কিন্তু আফিফ পুরো ইনিংসে রানের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করেছেন। তার ২৭ রানের মধ্যে ১৭টিই এসেছে সিঙ্গেলস থেকে এবং ১০ রান এসেছে ডাবলস থেকে। অর্থাৎ ৪৯ বলের মধ্যে ২৭ বল থেকেই কোনো রান নিতে পারেননি তিনি, যা ওয়ানডে ফরম্যাটে আধুনিক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানানসই নয়।
বিশেষ করে স্পিন সহায়ক উইকেটে আফিফের অসহায়ত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ৪২ বলে যখন ৫৬ রান প্রয়োজন এবং হাতে ৫ উইকেট ছিল, তখন একজন সেট ব্যাটার হিসেবে দলের হাল ধরা উচিত ছিল তার। কিন্তু ৪১তম ওভারে তিনি যখন আউট হন, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিউজিল্যান্ডের হাতে চলে যায়। ৪৯ বল খেলে একটি চার বা ছক্কা মারতে না পারাটা তার ব্যাটিং স্কিল ও সামর্থ্যের ঘাটতিকেই ফুটিয়ে তুলছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই ছন্দহীন আফিফ। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পর যে সুযোগ তিনি পাচ্ছেন, তার সঠিক ব্যবহার করতে পারছেন না। মিডল অর্ডারে ছয় নম্বর পজিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দ্রুত রান তোলার সক্ষমতা থাকা জরুরি। কিন্তু আফিফের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং চাপের মুখে ভেঙে পড়ার প্রবণতা এখন টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























