ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জে সোনালি ফসলে বন্যার ছায়া: ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় লাখো কৃষক

সুনামগঞ্জের দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। বাতাসের দোলায় দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন নির্বিঘ্নে ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। শ্রমিক সংকট, ডিজেলের অভাব এবং আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের কয়েক লাখ কৃষকের। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু নিচু এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও অধিকাংশ হাওরে ধান পাকতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। পানি জমে থাকায় আধুনিক ‘হারভেস্টার’ মেশিন দিয়ে ধান কাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শ্রমিকের অভাবে তারা ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পাথর ও বালু মহালগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধান দ্রুত কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ডিজেল সংকট মেটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে শুল্ক স্টেশন ও বালু মহালগুলো ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিল

সুনামগঞ্জে সোনালি ফসলে বন্যার ছায়া: ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় লাখো কৃষক

আপডেট সময় : ১১:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। বাতাসের দোলায় দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন নির্বিঘ্নে ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। শ্রমিক সংকট, ডিজেলের অভাব এবং আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের কয়েক লাখ কৃষকের। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু নিচু এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও অধিকাংশ হাওরে ধান পাকতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। পানি জমে থাকায় আধুনিক ‘হারভেস্টার’ মেশিন দিয়ে ধান কাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শ্রমিকের অভাবে তারা ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পাথর ও বালু মহালগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধান দ্রুত কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ডিজেল সংকট মেটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে শুল্ক স্টেশন ও বালু মহালগুলো ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।