দেশের জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে পরিবহন শ্রমিকদের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং তাদের উপার্জন কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং তার ফলশ্রুতিতে সারা দেশে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে একজন পরিবহন শ্রমিককে দৈনিক অন্তত ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তারা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার তেল পাচ্ছেন, যা তাদের উপার্জনের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে।
জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, তেলের পাম্পগুলো আগের চেয়ে অর্ধেক তেল পাচ্ছে বলে জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের পরিবারগুলোর আয় কমে যাওয়ায় তাদের কষ্টের সীমা আরও বেড়েছে। ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এই জরুরি বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করতে চাইলেও তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও মহানগরী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম।
ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে তার জোটকে হারানোর ইঙ্গিত করে বলেন, যদি কেউ জনগণকে ধোকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে থাকে, তবে তারা নিজেদেরকেই ধোকা দিচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যারা দেশের কল্যাণ চায় না, তারা জনগণের সমর্থন হারাবে এবং জনগণই এর প্রতিরোধ করবে।
তিনি আরও বলেন যে, তারা নির্বাচনের আগে কিছু সুযোগ-সুবিধা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তা রেখেছেন। এমনকি তাকে দেওয়া গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও তিনি লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, শ্রমিকের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে সর্বদা মাঠে কাজ করে যেতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ফ্যাক্টরিতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে শুধু মালিক নয়, বরং মালিক, শ্রমিক ও দেশের জনগণ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই সকল নৈরাজ্য ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা নতুন ব্যাংক আইনের সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংক ডাকাতদের হাতে জনগণের আমানত তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এর প্রতিরোধের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন যে, অনেক সময় মিডিয়াকে সত্য প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না এবং তাদের মিথ্যা প্রচারে বাধ্য করা হয়। তিনি জানান যে, তারা এগুলোর বিরুদ্ধেও সংসদে কাজ করছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশের শ্রমিকদের চাওয়া-পাওয়া খুব মামুলি।
রিপোর্টারের নাম 





















