ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের ১৪টি ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতারা যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের রায়কে নস্যাৎ করে সরকার রাষ্ট্রকে পুনরায় পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এই নেতারা মনে করেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্ন ও জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল অঙ্গীকার ছিল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, অর্থাৎ রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন সংস্কারমুখী অধ্যাদেশ জারি করেছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই সংস্কারের প্রস্তাবগুলোকে সমর্থন জানায়। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান সরকার এই রায়কে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে। জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন না করার যে সুপারিশ করেছে, তা সরাসরি জনরায়ের প্রতি অবজ্ঞা এবং জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা বলে তারা মন্তব্য করেন।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন যে, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গত ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকার তা করেনি। সরকার দাবি করছে, গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় আলাদা করে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে তোলার প্রয়োজন নেই, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং আইনি ফাঁকফোকর তৈরির অপচেষ্টা। সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এই জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তারা মনে করেন, সরকার ইচ্ছা করেই এগুলোর আইনি সুরক্ষা দেয়নি, যাতে ভবিষ্যতে জুলাই সনদের সংস্কার ও গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুনরায় সরকারি ছুটি ঘোষিত হলো ৭ নভেম্বর: মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ১৪টি ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতারা যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের রায়কে নস্যাৎ করে সরকার রাষ্ট্রকে পুনরায় পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এই নেতারা মনে করেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্ন ও জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল অঙ্গীকার ছিল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, অর্থাৎ রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন সংস্কারমুখী অধ্যাদেশ জারি করেছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই সংস্কারের প্রস্তাবগুলোকে সমর্থন জানায়। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান সরকার এই রায়কে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে। জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন না করার যে সুপারিশ করেছে, তা সরাসরি জনরায়ের প্রতি অবজ্ঞা এবং জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা বলে তারা মন্তব্য করেন।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন যে, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গত ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকার তা করেনি। সরকার দাবি করছে, গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় আলাদা করে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে তোলার প্রয়োজন নেই, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং আইনি ফাঁকফোকর তৈরির অপচেষ্টা। সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এই জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তারা মনে করেন, সরকার ইচ্ছা করেই এগুলোর আইনি সুরক্ষা দেয়নি, যাতে ভবিষ্যতে জুলাই সনদের সংস্কার ও গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায়।