ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

হজযাত্রীদের অন্তরের আকুতি: পবিত্র ভূমিতে প্রথম সফরের অনুভূতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ, যা পালিত হয় আরবি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজে। এই মাসটি ত্যাগ, ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সময়। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বেলিত হয়ে ছুটে যান পবিত্র মক্কায়, এবং ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ থেকেও হাজারো হাজী এই পুণ্যময় সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। তাদেরই চারজন সৌভাগ্যবান হজযাত্রীর প্রথম হজে যাওয়ার অনুভূতি, প্রস্তুতি এবং হৃদয়ের গভীর আকুতি তুলে ধরা হলো।

ফিউচার ওভারসিজ পরিচালক এহসান মাহমুদ মজুমদার, যিনি জীবনের প্রথম হজে যাচ্ছেন, তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক জায়গায় ঘোরার অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু প্রথম হজের সফরটি হবে সবচেয়ে বিশেষ। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং হৃদয়ের এক গভীর ডাকে সাড়া দেওয়া। পবিত্র মক্কা-মদিনায় গিয়ে যে শান্তি পাব, তা ভাবতেই মন ভরে উঠছে। আরাফার দিনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার স্বপ্ন দেখি। মিনার নীরবতা, মুজদালিফার রাত—সবকিছু যেন আগেই অনুভব করছি। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্থানে কোরবানি করার ইচ্ছা আমার মনে গভীর আলোড়ন তোলে। প্রতিদিন মনে হয়—কবে সেই শুভক্ষণ আসবে, কবে আমি আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করব।’

একই রকম অনুভূতি নিয়ে আমরা কথা বলি যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা নাওশিন তাসনীম জারা প্রধানের সঙ্গে। তিনি চলতি বছর (২০২৬) মা-বোনের সঙ্গে প্রথমবার হজ করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘জীবনের প্রথমবার হজ করতে যাচ্ছি। মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে আমি অসংখ্য শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাকে এই পবিত্র সফরের সৌভাগ্য দান করেছেন। মনটা কেমন অস্থির হয়ে আছে, বুকের ভেতর এক অজানা টান আর ব্যাকুলতা কাজ করছে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ঘর কাবার দিকে। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে ওঠে সেই কালো গিলাফে মোড়া বায়তুল্লাহ, যার দিকে মুখ করে সারাজীবন নামাজ পড়েছি। রাসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের কথা ভাবলেই চোখ ভিজে আসে। যাকে কখনো দেখিনি অথচ ভালোবাসি সবার চেয়ে বেশি, তাঁর দরজায় গিয়ে সালাম জানাব। ইহরাম বেঁধে যখন প্রথম বলব ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…’, সেই মুহূর্তের অপেক্ষাতেই এত দিন ছিলাম। আর কয়েকটি দিন পরই সেই অপেক্ষার অবসান হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুনরায় সরকারি ছুটি ঘোষিত হলো ৭ নভেম্বর: মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত

হজযাত্রীদের অন্তরের আকুতি: পবিত্র ভূমিতে প্রথম সফরের অনুভূতি

আপডেট সময় : ১১:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ, যা পালিত হয় আরবি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজে। এই মাসটি ত্যাগ, ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত সময়। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বেলিত হয়ে ছুটে যান পবিত্র মক্কায়, এবং ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ থেকেও হাজারো হাজী এই পুণ্যময় সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। তাদেরই চারজন সৌভাগ্যবান হজযাত্রীর প্রথম হজে যাওয়ার অনুভূতি, প্রস্তুতি এবং হৃদয়ের গভীর আকুতি তুলে ধরা হলো।

ফিউচার ওভারসিজ পরিচালক এহসান মাহমুদ মজুমদার, যিনি জীবনের প্রথম হজে যাচ্ছেন, তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক জায়গায় ঘোরার অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু প্রথম হজের সফরটি হবে সবচেয়ে বিশেষ। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং হৃদয়ের এক গভীর ডাকে সাড়া দেওয়া। পবিত্র মক্কা-মদিনায় গিয়ে যে শান্তি পাব, তা ভাবতেই মন ভরে উঠছে। আরাফার দিনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার স্বপ্ন দেখি। মিনার নীরবতা, মুজদালিফার রাত—সবকিছু যেন আগেই অনুভব করছি। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্থানে কোরবানি করার ইচ্ছা আমার মনে গভীর আলোড়ন তোলে। প্রতিদিন মনে হয়—কবে সেই শুভক্ষণ আসবে, কবে আমি আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করব।’

একই রকম অনুভূতি নিয়ে আমরা কথা বলি যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা নাওশিন তাসনীম জারা প্রধানের সঙ্গে। তিনি চলতি বছর (২০২৬) মা-বোনের সঙ্গে প্রথমবার হজ করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘জীবনের প্রথমবার হজ করতে যাচ্ছি। মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে আমি অসংখ্য শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাকে এই পবিত্র সফরের সৌভাগ্য দান করেছেন। মনটা কেমন অস্থির হয়ে আছে, বুকের ভেতর এক অজানা টান আর ব্যাকুলতা কাজ করছে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ঘর কাবার দিকে। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে ওঠে সেই কালো গিলাফে মোড়া বায়তুল্লাহ, যার দিকে মুখ করে সারাজীবন নামাজ পড়েছি। রাসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের কথা ভাবলেই চোখ ভিজে আসে। যাকে কখনো দেখিনি অথচ ভালোবাসি সবার চেয়ে বেশি, তাঁর দরজায় গিয়ে সালাম জানাব। ইহরাম বেঁধে যখন প্রথম বলব ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…’, সেই মুহূর্তের অপেক্ষাতেই এত দিন ছিলাম। আর কয়েকটি দিন পরই সেই অপেক্ষার অবসান হবে।’