মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার মেয়াদ আর নবায়ন করা হবে না। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই ছাড়ের প্রধান সুবিধাভোগী ছিল ভারত।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর যে সাধারণ লাইসেন্স শিথিল করা হয়েছিল, তা আর নবায়ন করা হবে না। ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১১ মার্চের আগে যেসব তেল জাহাজে তোলা হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেই এই ছাড় প্রযোজ্য ছিল এবং সেই তেল ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু অস্থায়ী ব্যবস্থা কার্যত শেষ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মূলত, এই অস্থায়ী ছাড়গুলো ছিল স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য ছিল ক্রমবর্ধমান জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। নির্দিষ্ট সময়ের আগে যেসব তেল জাহাজে তোলা হয়েছিল, সেগুলোকে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্র একটি ৩০ দিনের লাইসেন্স জারি করেছিল, যা ১২ মার্চের আগে জাহাজে তোলা রুশ তেল বিক্রি ও সরবরাহের অনুমতি দেয়। এই ছাড়ের মেয়াদ ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে।
একইভাবে, ২০ মার্চ ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও একটি ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করে। এই ছাড়ের মেয়াদ ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর তাদের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি আরও জোরদার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























