দেশজুড়ে যখন পহেলা বৈশাখের আনন্দ আর উৎসবের আমেজ তুঙ্গে, তখন কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের কাছে এই দিনটি কেবলই বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেক নাম। নদীভাঙন আর চরম দারিদ্র্যের শিকার এই জনপদের মানুষের কাছে নববর্ষের উৎসব এক প্রকার বিলাসিতা। চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুরের চরাঞ্চলগুলোতে বৈশাখের কোনো বিশেষ আয়োজন বা আমেজ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুবেলা অন্ন সংস্থানের দুশ্চিন্তায় যাদের দিন কাটে, তাদের কাছে নতুন পোশাক বা পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা অসম্ভব। চরের শিশুরা মেলায় যাওয়ার বায়না ধরলেও অভাবের কারণে বাবা-মায়েরা তা পূরণ করতে পারছেন না। উৎসবের পরিবর্তে বছরের বকেয়া শোধ করতে মহাজনের ‘হালখাতা’ রক্ষা করতেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে এই প্রান্তিক মানুষদের।
নদীমাতৃক কুড়িগ্রামের প্রায় চার শতাধিক চরের মানুষ যুগ যুগ ধরে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতি বছরই বৈশাখের আনন্দ থেকে তারা দূরে থাকেন। তাদের কাছে বৈশাখ মানে কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তন আর ঋণের বোঝা মেটানোর নতুন চ্যালেঞ্জ।
রিপোর্টারের নাম 



















