জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে তাপপ্রবাহ। অস্বাভাবিক এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গর্ভস্থ সন্তান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অপুষ্ট শিশুর জন্মের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানে জানানো হয়েছে, কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রার সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেও তা গর্ভকালীন নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি নারী বর্তমানে চরম তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহজনিত এই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শীতল কিংবা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের নারীরাও এই বিপর্যয় থেকে মুক্ত নন।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক দশকে পৃথিবীর বুকজুড়ে টানা চলা চরম তাপমাত্রা বা ‘হিট স্টর্ম’-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ষাটের দশকে যেখানে এ ধরনের বড় মাপের হিট স্টর্মের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০টি, চলতি দশকেই তা সাড়ে ছয় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। মেক্সিকোতে পরিচালিত জন্মসংক্রান্ত উপাত্ত পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখেছেন, গর্ভাবস্থার শেষ ধাপে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে সময়ের আগেই সন্তান প্রসবের ঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতা শুধু পরিবেশ নয়, মানবজাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই চরম তাপপ্রবাহের সময়ে গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা এবং সুরক্ষাবলয়ের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

























