সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের হয়রানি, হামলা, কারাবরণ এমনকি হত্যার শিকার হতে হচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতার অবসানবিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণীতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশের জন্য এখনো ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছেন। জনসাধারণকে সঠিক তথ্য জানানো এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনতে গণমাধ্যমকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অথচ পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁদের প্রায়ই হয়রানি, নজরদারি, মিথ্যা মামলা, শারীরিক হামলা ও কারাবরণের শিকার হতে হয়। এমনকি কখনো কখনো নির্যাতন ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটে।
জাতিসংঘের মহাসচিব জানান, গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতি সাতজনের ছয়জনের হত্যার ঘটনায় কোনো বিচার হয়নি। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় বিচারহীনতার হার প্রায় শতভাগ।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয়। তাঁদের কাজ মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃশ্যমান বিচার এবং সব ধরনের অনলাইন হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
গুতেরেস উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছু অগ্রগতি সাধিত হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি রয়েছে। ২০১২ সালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারহীনতা বন্ধে জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা চালুর পর সশস্ত্র সংঘাত নেই—এমন দেশগুলোতে সাংবাদিক হত্যার বিচারহীনতার হার ৯৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের যদি লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তাঁদের স্বাধীন প্রতিবেদন প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতার অবসানবিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁদের ওপর হামলার বিচার এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সচেতনতা বাড়ানোই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
























