জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। সোমবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রম অধিকার এবং সংবিধান সংশোধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাইযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করা হয়েছে। বিরোধী দলকেও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যুক্ত হতে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আলোচনার সুযোগ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজপথে আন্দোলনের পথ এড়িয়ে বিরোধী দল সংসদে এসে গণতান্ত্রিক আলোচনায় অংশ নিতে পারে। জাতীয় সংসদই হলো গণতান্ত্রিক কার্যব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে সব মতপার্থক্য নিরসন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ় করা সম্ভব।
আলোচনায় সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ‘বাংলাদেশ-ইইউ সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংসদীয় বাজেট ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।
বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ প্রসার, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজন, শ্রম আইন সংশোধনে অগ্রগতি, শ্রমিকদের সুরক্ষা ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






















