মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:১৩ পূর্বাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পবিত্র কাবা শরিফে প্রবেশের সুযোগ পান কারা?

  • হালনাগাদ সময় : ১১:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র কাবা মুসলমানদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান। তবে মসজিদে হারামে প্রবেশ আর কাবা শরিফের ভেতরে প্রবেশ এক বিষয় নয়। মসজিদে হারামে সাধারণ মুসল্লি ও উমরাযাত্রীরা ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন, কিন্তু পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্দিষ্ট ব্যবস্থা, অনুমতি ও নিরাপত্তাবিধির আওতায় এই সুযোগ দেওয়া হয়। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমতি নিয়ে কাবার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি কিংবা বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে পবিত্র কাবায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। অর্থাৎ পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

পবিত্র কাবার তত্ত্বাবধায়ক ও কাবার দরজার চাবির দায়িত্বে থাকা পরিবার, সৌদি রাজপরিবারের সদস্য ও তাদের প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কেবল কাবায় প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন। পবিত্র কাবার চাবি ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ঐতিহাসিকভাবে বনু শাইবার বংশধরদের কাছে ন্যস্ত। তাই পবিত্র কাবা খোলা, বন্ধ করা এবং পরিষ্কার করার আনুষ্ঠানিকতায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। পাশাপাশি কাবা পরিষ্কারের মতো বিশেষ আনুষ্ঠানিকতায় সৌদি বাদশাহ অথবা তার প্রতিনিধি অংশ নেন। এ সময় রাজপরিবারের সদস্যদের পবিত্র কাবায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুন কাবা পরিষ্কারের অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন মক্কা অঞ্চলের উপগভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল। তিনি বাদশাহ সালমানের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করেন। ওই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সৌদি আরবে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, মসজিদে হারামের ইমাম এবং কাবার তত্ত্বাবধায়কেরা অংশ নেন। এর বাইরে বিশেষ ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। বিগত বছরগুলোতেও কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন সৌদি আরব সফরে গিয়ে উমরা পালন শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নফল নামাজ আদায় করেন। তার সঙ্গে তখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ছিল। এর পর ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট শাহবাজ শরিফ আবারও উমরা পালন করেন এবং কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩ জুলাই সৌদি আরব সফরে গিয়ে উমরা পালন শেষে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেন। সর্বশেষ গত রোববার নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু তার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে কাবার ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নামাজ আদায় করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পবিত্র কাবা শরিফে প্রবেশের সুযোগ পান কারা?

হালনাগাদ সময় : ১১:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পবিত্র কাবা মুসলমানদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান। তবে মসজিদে হারামে প্রবেশ আর কাবা শরিফের ভেতরে প্রবেশ এক বিষয় নয়। মসজিদে হারামে সাধারণ মুসল্লি ও উমরাযাত্রীরা ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন, কিন্তু পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্দিষ্ট ব্যবস্থা, অনুমতি ও নিরাপত্তাবিধির আওতায় এই সুযোগ দেওয়া হয়। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমতি নিয়ে কাবার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি কিংবা বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে পবিত্র কাবায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। অর্থাৎ পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

পবিত্র কাবার তত্ত্বাবধায়ক ও কাবার দরজার চাবির দায়িত্বে থাকা পরিবার, সৌদি রাজপরিবারের সদস্য ও তাদের প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কেবল কাবায় প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন। পবিত্র কাবার চাবি ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ঐতিহাসিকভাবে বনু শাইবার বংশধরদের কাছে ন্যস্ত। তাই পবিত্র কাবা খোলা, বন্ধ করা এবং পরিষ্কার করার আনুষ্ঠানিকতায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। পাশাপাশি কাবা পরিষ্কারের মতো বিশেষ আনুষ্ঠানিকতায় সৌদি বাদশাহ অথবা তার প্রতিনিধি অংশ নেন। এ সময় রাজপরিবারের সদস্যদের পবিত্র কাবায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুন কাবা পরিষ্কারের অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন মক্কা অঞ্চলের উপগভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল। তিনি বাদশাহ সালমানের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করেন। ওই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সৌদি আরবে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, মসজিদে হারামের ইমাম এবং কাবার তত্ত্বাবধায়কেরা অংশ নেন। এর বাইরে বিশেষ ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। বিগত বছরগুলোতেও কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন সৌদি আরব সফরে গিয়ে উমরা পালন শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নফল নামাজ আদায় করেন। তার সঙ্গে তখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ছিল। এর পর ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট শাহবাজ শরিফ আবারও উমরা পালন করেন এবং কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩ জুলাই সৌদি আরব সফরে গিয়ে উমরা পালন শেষে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেন। সর্বশেষ গত রোববার নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু তার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে কাবার ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নামাজ আদায় করেন।

Share this news as a Photo Card