মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:০১ পূর্বাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারংবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ ব্যাখ্যা চাইল সংসদীয় কমিটি

  • হালনাগাদ সময় : ১০:২০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে ঘন ঘন দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির দায় নির্ধারণ এবং আইটি খাতের দুর্বলতায় রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর বার্তা দেয় কমিটি। এতে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত থেকে মতামত দেন।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় সরকারি তহবিলের অপচয় বন্ধ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত জবাবদিহি নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোচনায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে। উড়োজাহাজে বারবার দেখা দেওয়া কারিগরি জটিলতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ পর্যন্ত গৃহীত অডিট আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কত টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় হয়েছে, এখনো কী পরিমাণ অর্থ অনাদায়ি রয়েছে এবং অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মে জড়িত কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি নিষ্পত্তি হওয়া ও অসম্পূর্ণ নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক প্রমাণাদিসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটি উত্থাপিত সার্বিক বিষয়ে বিস্তৃত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারংবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ ব্যাখ্যা চাইল সংসদীয় কমিটি

হালনাগাদ সময় : ১০:২০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে ঘন ঘন দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির দায় নির্ধারণ এবং আইটি খাতের দুর্বলতায় রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর বার্তা দেয় কমিটি। এতে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত থেকে মতামত দেন।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় সরকারি তহবিলের অপচয় বন্ধ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত জবাবদিহি নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোচনায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে। উড়োজাহাজে বারবার দেখা দেওয়া কারিগরি জটিলতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ পর্যন্ত গৃহীত অডিট আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কত টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় হয়েছে, এখনো কী পরিমাণ অর্থ অনাদায়ি রয়েছে এবং অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মে জড়িত কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি নিষ্পত্তি হওয়া ও অসম্পূর্ণ নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক প্রমাণাদিসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটি উত্থাপিত সার্বিক বিষয়ে বিস্তৃত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।

Share this news as a Photo Card