ওজন নিয়ন্ত্রণ বা পেটের নানা সমস্যা কমাতে পানির তাপমাত্রা কতটুকু ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, পানি ঠান্ডা না গরম—তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা হচ্ছে কি না।
অনেকের ধারণা, ঠান্ডা পানি খেলে খাবার সহজে হজম হতে চায় না কিংবা চর্বি জমে যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি হজমে ব্যাঘাত ঘটায়—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে বা শারীরিক পরিশ্রমের পর ঠান্ডা পানি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে যাদের ঠান্ডা পানিতে সংবেদনশীলতা বা খাদ্যনালীতে অস্বস্তি হয়, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
অন্যদিকে, হালকা কুসুম গরম পানি পানের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। এটি গলা শুকিয়ে যাওয়া বা সর্দি-কাশির অস্বস্তি উপশমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে অতিরিক্ত গরম পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে খাদ্যনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
খাওয়ার পরপরই পানি পানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, খাওয়ার সময় বা পরে পরিমিত পানি পানে পাচক রস বা এনজাইম পাতলা হয়ে যায়—এমন ধারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং পর্যাপ্ত পানি খাবার পরিপাক ও পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। তবে একবারে অতিরিক্ত পানি পান না করে ধীরে ধীরে পান করাই উত্তম, যাতে পেটে ভারী ভাব তৈরি না হয়।

























