মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:০৫ পূর্বাহ্ন | ২রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ইসলামবিদ্বেষী প্রবণতা রোধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ডাক

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিমস স্কলার্স (আইইউএমএস) ও দ্য ফাউন্ডেশন অব ইসলামিক স্কলার্স-এর যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর ঐক্য: ঐক্যের সনদ’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশের আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের সমাপনী ঘোষণায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মতপার্থক্য নিরসন এবং নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তা ছাড়া গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানান ইসলামি চিন্তাবিদরা।

সম্মেলনে ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর সনদ: মৌলিক বিষয় ও পরিবর্তনশীল বিষয়’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এতে ইসলামের অকাট্য মৌলিক বিধান এবং পরিবর্তনশীল ও গবেষণানির্ভর বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে শরিয়াহসম্মত গবেষণা, সংস্কার ও আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত প্রয়োজন। মতাদর্শিক ও মাজহাবভিত্তিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদ পরিহার করে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের আলেম, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।

সম্মেলনে ঐক্যবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সেন্টার ফর ইউনিটি’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও প্রবাসী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য কমিটি গঠন, যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নিয়মিত সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সমাপনী ঘোষণায় ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও সুদানের জনগণের প্রতি বিশেষ সংহতি প্রকাশ করা হয়। গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুরক্ষা, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং আল-আকসা মসজিদ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে দখলদারিত্ব অবসানের দাবি জানানো হয়।

ইয়েমেনের ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সুদানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। দেশটিতে চলমান সংঘাত বন্ধ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা ও পূর্ব তুর্কিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বিশ্ববাসীর সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোলে দুই ভাইয়ের জমি বিরোধ: উঠানে বাঁশের বেড়ায় চরম দুর্ভোগে পরিবার

01 November 2026

ঢাকার সফলতার পর এবার চট্টগ্রামে বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্ট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ইসলামবিদ্বেষী প্রবণতা রোধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ডাক

হালনাগাদ সময় : ১১:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিমস স্কলার্স (আইইউএমএস) ও দ্য ফাউন্ডেশন অব ইসলামিক স্কলার্স-এর যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর ঐক্য: ঐক্যের সনদ’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশের আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের সমাপনী ঘোষণায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মতপার্থক্য নিরসন এবং নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তা ছাড়া গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানান ইসলামি চিন্তাবিদরা।

সম্মেলনে ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর সনদ: মৌলিক বিষয় ও পরিবর্তনশীল বিষয়’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এতে ইসলামের অকাট্য মৌলিক বিধান এবং পরিবর্তনশীল ও গবেষণানির্ভর বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে শরিয়াহসম্মত গবেষণা, সংস্কার ও আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত প্রয়োজন। মতাদর্শিক ও মাজহাবভিত্তিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদ পরিহার করে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের আলেম, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।

সম্মেলনে ঐক্যবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সেন্টার ফর ইউনিটি’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও প্রবাসী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য কমিটি গঠন, যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নিয়মিত সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সমাপনী ঘোষণায় ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও সুদানের জনগণের প্রতি বিশেষ সংহতি প্রকাশ করা হয়। গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুরক্ষা, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং আল-আকসা মসজিদ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে দখলদারিত্ব অবসানের দাবি জানানো হয়।

ইয়েমেনের ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সুদানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। দেশটিতে চলমান সংঘাত বন্ধ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা ও পূর্ব তুর্কিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বিশ্ববাসীর সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Share this news as a Photo Card