ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে মুক্তি পাচ্ছে সুলতানাস ড্রিম

আধিপত্যবাদী এক সমাজে মেয়েরা মাথা তুলে দাঁড়াবে নিজের অধিকার আদায়ে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার সেই স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের গল্প পর্দায় তুলে আনেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা।

স্প্যানিশ ভাষায় ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’; ইংরেজিতে ‘সুলতানাস ড্রিম’। সিনেমাটি এবার মুক্তি পাচ্ছে ঢাকায়। ফেসবুকে এই তথ্য দিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স। তবে মুক্তির দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করেনি স্টার সিনেপ্লেক্স।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের ‘সান সেবাস্টিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে সিনেমাটি।

১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘সুলতানাস ড্রিম’-১ রচনাটি পুরো ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনি বলে বিখ্যাত হয়ে আছে। পরবর্তীতে ১৯২২ সালে (রোকেয়া-রচনাবলি) বেগম রোকেয়া নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে উপন্যাসটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন। বেগম রোকেয়ার এ লেখার সঙ্গে কীভাবে পরিচয় হলো সে কথা এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নির্মাতা হারগুয়েরা। ২০১২ সালে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। প্রচণ্ড বৃষ্টির একদিনে আটকা পড়েছিলেন শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে। সেখানেই খুঁজে পান ‘সুলতানাস ড্রিম’ বইটি।

ইসবেল বলেছিলেন, ‘এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে অন্য এক পৃথিবীর। বইটি পড়ে আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে আমি সিনেমা বানাব। কিছুদিন পর সিদ্ধান্ত নিই যে, ফিচার ফিল্ম হবে এবং অ্যানিমেশন হবে। কিন্তু অ্যানিমেশন ফিল্ম করতে দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হয়, প্রচুর অর্থ লাগে। আমার মনে হয় কাজটি দুর্দান্ত হয়েছে।’

বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ সিনেমাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচটি ভাষা। এ সিনেমায় কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও আছে। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ; গেয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

দেশে মুক্তি পাচ্ছে সুলতানাস ড্রিম

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আধিপত্যবাদী এক সমাজে মেয়েরা মাথা তুলে দাঁড়াবে নিজের অধিকার আদায়ে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার সেই স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের গল্প পর্দায় তুলে আনেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা।

স্প্যানিশ ভাষায় ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’; ইংরেজিতে ‘সুলতানাস ড্রিম’। সিনেমাটি এবার মুক্তি পাচ্ছে ঢাকায়। ফেসবুকে এই তথ্য দিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স। তবে মুক্তির দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করেনি স্টার সিনেপ্লেক্স।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের ‘সান সেবাস্টিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে’ সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে সিনেমাটি।

১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘সুলতানাস ড্রিম’-১ রচনাটি পুরো ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনি বলে বিখ্যাত হয়ে আছে। পরবর্তীতে ১৯২২ সালে (রোকেয়া-রচনাবলি) বেগম রোকেয়া নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে উপন্যাসটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন। বেগম রোকেয়ার এ লেখার সঙ্গে কীভাবে পরিচয় হলো সে কথা এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নির্মাতা হারগুয়েরা। ২০১২ সালে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। প্রচণ্ড বৃষ্টির একদিনে আটকা পড়েছিলেন শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে। সেখানেই খুঁজে পান ‘সুলতানাস ড্রিম’ বইটি।

ইসবেল বলেছিলেন, ‘এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে অন্য এক পৃথিবীর। বইটি পড়ে আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে আমি সিনেমা বানাব। কিছুদিন পর সিদ্ধান্ত নিই যে, ফিচার ফিল্ম হবে এবং অ্যানিমেশন হবে। কিন্তু অ্যানিমেশন ফিল্ম করতে দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হয়, প্রচুর অর্থ লাগে। আমার মনে হয় কাজটি দুর্দান্ত হয়েছে।’

বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ সিনেমাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচটি ভাষা। এ সিনেমায় কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও আছে। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ; গেয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।