ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘আমার স্ট্রোকের খবরে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন’

স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সংগীতশিল্পী তৌসিফ আহমেদ। কদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন তিনি। অসুস্থ অবস্থায় তার মাথায় দিতে হয়েছে ২৭টি সেলাই। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন এই শিল্পী। কারণ, অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তৌসিফ আহমেদ জানান, ২৮ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে স্ত্রী ও সন্তান তাকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তিনি বাসায় ফেরেন। অসুস্থতার খবর ফেসবুকে জানানোর পর থেকেই একশ্রেণির মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কটূক্তি ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তৌসিফ। এসব মন্তব্য তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তৌসিফ আহমেদ লেখেন, ‘আমার স্ট্রোকের খবরে বেশ কজন ব্যক্তি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। যদিও এতে আমার ব্যক্তিগতভাবে তেমন কিছু যায়-আসে না; তবে সাইবার বুলিং, মানহানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপরাধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছি।’

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘দেখছি, আমাদের আশপাশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী দিন দিন খুব অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। কোথায় কী বলা উচিত, সেটাও যেন ভুলে যাচ্ছে। কারো অসুস্থতার খবরে সহানুভূতির বদলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হচ্ছে। এমনকি আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা আমি সরাসরি অপরাধ হিসেবে দেখছি। এতে আমার সম্মানহানি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। যারা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন আমি কেমন মানুষ। অনুরোধ, আমার পরিবারকে ছোট করবেন না।’

ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় তৌসিফ আরো লেখেন, ‘আমি হয়তো বড় শিল্পী হতে পারিনি; কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—দেড় যুগ আগে প্রকাশিত আমার গাওয়া গান আজও মানুষ আগ্রহ নিয়ে শোনে, ভবিষ্যতেও শুনবে। একজন শিল্পীর জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! আমার সম্পর্কে না জেনে দয়া করে কোনো মিথ্যা গুজব ছড়াবেন না।’

দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তৌসিফ আহমেদ। সে কারণে আগের মতো নিয়মিত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগেও তিনি একাধিকবার গুরুতর শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক করেন এই সংগীতশিল্পী। চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ‘দূরে কোথাও আছি বসে’, ‘বৃষ্টি ঝরে যায়’, ‘এ মনের আঙিনায়’, ‘জান পাখি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তৌসিফ আহমেদ। শুধু গায়ক হিসেবেই নয়, গান লেখা, সুর করা ও সংগীতায়োজনেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘অভিপ্রায়’।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

‘আমার স্ট্রোকের খবরে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন’

আপডেট সময় : ০৭:২৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সংগীতশিল্পী তৌসিফ আহমেদ। কদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন তিনি। অসুস্থ অবস্থায় তার মাথায় দিতে হয়েছে ২৭টি সেলাই। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন এই শিল্পী। কারণ, অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তৌসিফ আহমেদ জানান, ২৮ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে স্ত্রী ও সন্তান তাকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তিনি বাসায় ফেরেন। অসুস্থতার খবর ফেসবুকে জানানোর পর থেকেই একশ্রেণির মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কটূক্তি ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তৌসিফ। এসব মন্তব্য তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তৌসিফ আহমেদ লেখেন, ‘আমার স্ট্রোকের খবরে বেশ কজন ব্যক্তি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। যদিও এতে আমার ব্যক্তিগতভাবে তেমন কিছু যায়-আসে না; তবে সাইবার বুলিং, মানহানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপরাধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছি।’

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘দেখছি, আমাদের আশপাশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী দিন দিন খুব অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। কোথায় কী বলা উচিত, সেটাও যেন ভুলে যাচ্ছে। কারো অসুস্থতার খবরে সহানুভূতির বদলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হচ্ছে। এমনকি আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা আমি সরাসরি অপরাধ হিসেবে দেখছি। এতে আমার সম্মানহানি হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। যারা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন আমি কেমন মানুষ। অনুরোধ, আমার পরিবারকে ছোট করবেন না।’

ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় তৌসিফ আরো লেখেন, ‘আমি হয়তো বড় শিল্পী হতে পারিনি; কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—দেড় যুগ আগে প্রকাশিত আমার গাওয়া গান আজও মানুষ আগ্রহ নিয়ে শোনে, ভবিষ্যতেও শুনবে। একজন শিল্পীর জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! আমার সম্পর্কে না জেনে দয়া করে কোনো মিথ্যা গুজব ছড়াবেন না।’

দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তৌসিফ আহমেদ। সে কারণে আগের মতো নিয়মিত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগেও তিনি একাধিকবার গুরুতর শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক করেন এই সংগীতশিল্পী। চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ‘দূরে কোথাও আছি বসে’, ‘বৃষ্টি ঝরে যায়’, ‘এ মনের আঙিনায়’, ‘জান পাখি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তৌসিফ আহমেদ। শুধু গায়ক হিসেবেই নয়, গান লেখা, সুর করা ও সংগীতায়োজনেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘অভিপ্রায়’।