ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আইনজীবী আলিফ হত্যা: র‍্যাবের জালে পলাতক গণেশ

চট্টগ্রাম, ১১ জানুয়ারি: চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি শ্রী গণেশকে (১৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদীঘীর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আইনজীবী আলিফ হত্যায় গণেশ সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন গণেশকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গণেশ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন সেবক কলোনির শরিফ দাসের ছেলে।

মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এই প্রতিবেদককে জানান, “আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্যতম আসামি শ্রীগণেশকে র‍্যাব গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে মামলায় মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো। আরও ১৫ জন আসামি পলাতক রয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিন্ময় দাসের অনুসারীরা আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে এবং তাকে কারাগারে নিতে বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত করে। একপর্যায়ে আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী চন্দন, রুমিত দাস, সুমিত দাস, গগন দাস, নয়ন দাস, বিশাল দাস, আমান দাস, সুকান্ত, শ্রী গণেশসহ তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। গণেশের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আনসারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

আইনজীবী আলিফ হত্যা: র‍্যাবের জালে পলাতক গণেশ

আপডেট সময় : ০২:০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম, ১১ জানুয়ারি: চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি শ্রী গণেশকে (১৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদীঘীর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আইনজীবী আলিফ হত্যায় গণেশ সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন গণেশকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গণেশ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন সেবক কলোনির শরিফ দাসের ছেলে।

মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এই প্রতিবেদককে জানান, “আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্যতম আসামি শ্রীগণেশকে র‍্যাব গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে মামলায় মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো। আরও ১৫ জন আসামি পলাতক রয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিন্ময় দাসের অনুসারীরা আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে এবং তাকে কারাগারে নিতে বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত করে। একপর্যায়ে আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী চন্দন, রুমিত দাস, সুমিত দাস, গগন দাস, নয়ন দাস, বিশাল দাস, আমান দাস, সুকান্ত, শ্রী গণেশসহ তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। গণেশের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।