ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র শীতে দগ্ধ রোগীর ভিড়ে হিমশিম বার্ন ইনস্টিটিউট, আটকে আছে ঢাকার বাইরের ইউনিট স্থাপন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দগ্ধ রোগীদের ভিড়ে এখন হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা খুঁজতে গিয়ে অসতর্কতায় দগ্ধ হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে রোগীর সারি, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশি।

সম্প্রতি এমনই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী সকিনা বেগম ও চট্টগ্রামের ৪৫ বছর বয়সী হালিমা খাতুন। আগুন পোহাতে গিয়ে শাড়িতে আগুন লেগে গুরুতর দগ্ধ হন সকিনা। অন্যদিকে, গোসলের জন্য গরম পানি নামাতে গিয়ে ঝলসে যায় হালিমার শরীর ও হাত-পা। ভালুকার আট বছর বয়সী শিশু তোহা বন্ধুদের সঙ্গে আগুন পোহাতে গিয়ে পিঠ, কোমর ও হাঁটুর নিচে দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের সবাইকে আনা হয়েছে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে, যেখানে তারা এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শীতকালে উষ্ণতা পেতে গিয়ে অসতর্কতার কারণে সব বয়সী মানুষই দগ্ধ হচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু আগুন পোহানো নয়, গরম পানি, চা, কফি, গরম ভাতের মাড় কিংবা রান্নার চুলার আগুনেও অনেকে দগ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৪০-৪৫ জন রোগী আসে, শীতে তা বেড়ে ৬০-৬৫ জনে পৌঁছায়। ডা. শাওন আরও বলেন, অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দগ্ধ রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। ঢাকার বাইরের রোগীরা প্রায়শই সংকটজনক অবস্থায় এখানে আসেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৬ জানুয়ারির মধ্যেই ৩২৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৮০ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে ১,২০০ জন এবং নভেম্বরে ১,১৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিলেও ভর্তি হয়েছিলেন যথাক্রমে ৩৬৪ ও ২৯৮ জন।

এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ডা. শাওন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শীতকালে গরম পানির পাত্র বা আগুনের উৎস শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। কেউ দগ্ধ হলে পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, ডিম বা বরফ না লাগিয়ে অন্তত ২০-৩০ মিনিট সাধারণ তাপমাত্রার পানি ঢালতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

এদিকে, ঢাকার বাইরের রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ৫৫০ শয্যার এই ইনস্টিটিউটে সংকটপূর্ণ রোগীদের জন্য ৭২টি শয্যা থাকলেও, সারাদেশের রোগীদের চাপ সামলাতে তা যথেষ্ট নয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ করোনা মহামারি, নকশা পরিবর্তন ও সৌদি উন্নয়ন তহবিলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় থমকে আছে। বর্তমানে সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৮১৬.১৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার বাইরে এসব ইউনিট দ্রুত চালু হলে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে এবং দগ্ধ রোগীরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পাবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

তীব্র শীতে দগ্ধ রোগীর ভিড়ে হিমশিম বার্ন ইনস্টিটিউট, আটকে আছে ঢাকার বাইরের ইউনিট স্থাপন

আপডেট সময় : ১০:০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দগ্ধ রোগীদের ভিড়ে এখন হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা খুঁজতে গিয়ে অসতর্কতায় দগ্ধ হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে রোগীর সারি, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশি।

সম্প্রতি এমনই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী সকিনা বেগম ও চট্টগ্রামের ৪৫ বছর বয়সী হালিমা খাতুন। আগুন পোহাতে গিয়ে শাড়িতে আগুন লেগে গুরুতর দগ্ধ হন সকিনা। অন্যদিকে, গোসলের জন্য গরম পানি নামাতে গিয়ে ঝলসে যায় হালিমার শরীর ও হাত-পা। ভালুকার আট বছর বয়সী শিশু তোহা বন্ধুদের সঙ্গে আগুন পোহাতে গিয়ে পিঠ, কোমর ও হাঁটুর নিচে দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের সবাইকে আনা হয়েছে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে, যেখানে তারা এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শীতকালে উষ্ণতা পেতে গিয়ে অসতর্কতার কারণে সব বয়সী মানুষই দগ্ধ হচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু আগুন পোহানো নয়, গরম পানি, চা, কফি, গরম ভাতের মাড় কিংবা রান্নার চুলার আগুনেও অনেকে দগ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৪০-৪৫ জন রোগী আসে, শীতে তা বেড়ে ৬০-৬৫ জনে পৌঁছায়। ডা. শাওন আরও বলেন, অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দগ্ধ রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। ঢাকার বাইরের রোগীরা প্রায়শই সংকটজনক অবস্থায় এখানে আসেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৬ জানুয়ারির মধ্যেই ৩২৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৮০ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে ১,২০০ জন এবং নভেম্বরে ১,১৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিলেও ভর্তি হয়েছিলেন যথাক্রমে ৩৬৪ ও ২৯৮ জন।

এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ডা. শাওন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শীতকালে গরম পানির পাত্র বা আগুনের উৎস শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। কেউ দগ্ধ হলে পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, ডিম বা বরফ না লাগিয়ে অন্তত ২০-৩০ মিনিট সাধারণ তাপমাত্রার পানি ঢালতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

এদিকে, ঢাকার বাইরের রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ৫৫০ শয্যার এই ইনস্টিটিউটে সংকটপূর্ণ রোগীদের জন্য ৭২টি শয্যা থাকলেও, সারাদেশের রোগীদের চাপ সামলাতে তা যথেষ্ট নয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ করোনা মহামারি, নকশা পরিবর্তন ও সৌদি উন্নয়ন তহবিলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় থমকে আছে। বর্তমানে সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৮১৬.১৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার বাইরে এসব ইউনিট দ্রুত চালু হলে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে এবং দগ্ধ রোগীরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পাবেন।