ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রবীণ বয়সে সুখী জীবনের চারটি অভ্যাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে শতবর্ষী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। বিশ্বের দীর্ঘায়ু দেশগুলোর মধ্যে জাপান সুপরিচিত। প্রায়শই এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়। এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘ জীবন নাকি সুখী জীবন, কোনটি বেশি কাঙ্ক্ষিত?

মার্কিন জেরিয়াট্রিশিয়ান (বৃদ্ধদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ) ডা. কেরি বার্নাইট বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে সুখী ও অর্থবহ জীবনযাপন করা যায়, সে বিষয়ে নতুন কিছু ধারণা দিয়েছেন। এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বার্ধক্যে সুস্থতার পাশাপাশি প্রয়োজন ‘জয়স্প্যান’ বা আনন্দময় জীবনের পরিসর।

ডা. কেরি প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ যখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে দীর্ঘ জীবন পাওয়ার আশা করে, তখন সেই বাড়তি বছরগুলো যদি আনন্দহীন হয়, তাহলে সেই দীর্ঘ জীবনের মূল্য কোথায়? তার মতে, আমরা কত বছর বাঁচলাম, শুধু সেটাই নয়, বরং সেই বছরগুলো কেমন কাটল, সেটাই আসল। তাই তিনি লাইফস্প্যান (জীবনের দৈর্ঘ্য) ও হেলথস্প্যানের (সুস্থ জীবনের দৈর্ঘ্য) পাশাপাশি ‘জয়স্প্যান’ নামে নতুন একটি ধারণা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, “আমার পেশাজীবনের প্রথম ২০ বছরে আমি দেখেছি অনেক মানুষ একা, হতাশ এবং জীবনের কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না। তখনই আমি বুঝেছি, বয়স বাড়া মানেই কষ্ট নয়।”

২০২৫ সালে প্রকাশিত হতে যাওয়া তার বই “Joyspan: The Art and Science of Thriving in Life’s Second Half”-এ তিনি সুখী বার্ধক্যের জন্য চারটি মূল অভ্যাসের কথা বলেছেন:

প্রথমত, নতুন কিছু শেখা, কৌতূহলী থাকা এবং নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা। তার মতে, নতুন কিছু শেখা মানুষকে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। এটি একাকীত্ব দূর করতে সহায়ক।

তৃতীয়ত, কঠিন সময়ে মানসিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো পরিস্থিতিতে মনোবল শক্ত রাখা প্রবীণ মানুষের জন্য সহজ না হলেও, ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

সবশেষে, অন্যের জন্য সময় বের করা এবং প্রয়োজনে সাহায্য করার মাধ্যমে এক ধরনের আনন্দ অনুভূত হয়।

ডা. কেরি বার্নাইট মনে করেন, এই চারটি অভ্যাস কেবল মনের জন্যই নয়, শরীরের জন্যও উপকারী। তার নিজের মা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ৯৬ বছর বয়সেও তিনি একা থাকেন, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। ডা. কেরি বলেন, “আমার মা অসুস্থ হয়েছেন এবং স্বামীকে হারিয়েছেন। তবুও তিনি জীবনে সুখী থাকার চেষ্টা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সফল।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ‘জয়স্প্যান’ ধারণাটি আমাদের শেখাচ্ছে যে বার্ধক্য মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়। বরং সঠিক অভ্যাস এবং মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে জীবনের শেষ অধ্যায়ও হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

প্রবীণ বয়সে সুখী জীবনের চারটি অভ্যাস

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে শতবর্ষী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। বিশ্বের দীর্ঘায়ু দেশগুলোর মধ্যে জাপান সুপরিচিত। প্রায়শই এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়। এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘ জীবন নাকি সুখী জীবন, কোনটি বেশি কাঙ্ক্ষিত?

মার্কিন জেরিয়াট্রিশিয়ান (বৃদ্ধদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ) ডা. কেরি বার্নাইট বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে সুখী ও অর্থবহ জীবনযাপন করা যায়, সে বিষয়ে নতুন কিছু ধারণা দিয়েছেন। এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বার্ধক্যে সুস্থতার পাশাপাশি প্রয়োজন ‘জয়স্প্যান’ বা আনন্দময় জীবনের পরিসর।

ডা. কেরি প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ যখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে দীর্ঘ জীবন পাওয়ার আশা করে, তখন সেই বাড়তি বছরগুলো যদি আনন্দহীন হয়, তাহলে সেই দীর্ঘ জীবনের মূল্য কোথায়? তার মতে, আমরা কত বছর বাঁচলাম, শুধু সেটাই নয়, বরং সেই বছরগুলো কেমন কাটল, সেটাই আসল। তাই তিনি লাইফস্প্যান (জীবনের দৈর্ঘ্য) ও হেলথস্প্যানের (সুস্থ জীবনের দৈর্ঘ্য) পাশাপাশি ‘জয়স্প্যান’ নামে নতুন একটি ধারণা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, “আমার পেশাজীবনের প্রথম ২০ বছরে আমি দেখেছি অনেক মানুষ একা, হতাশ এবং জীবনের কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না। তখনই আমি বুঝেছি, বয়স বাড়া মানেই কষ্ট নয়।”

২০২৫ সালে প্রকাশিত হতে যাওয়া তার বই “Joyspan: The Art and Science of Thriving in Life’s Second Half”-এ তিনি সুখী বার্ধক্যের জন্য চারটি মূল অভ্যাসের কথা বলেছেন:

প্রথমত, নতুন কিছু শেখা, কৌতূহলী থাকা এবং নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা। তার মতে, নতুন কিছু শেখা মানুষকে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। এটি একাকীত্ব দূর করতে সহায়ক।

তৃতীয়ত, কঠিন সময়ে মানসিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো পরিস্থিতিতে মনোবল শক্ত রাখা প্রবীণ মানুষের জন্য সহজ না হলেও, ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

সবশেষে, অন্যের জন্য সময় বের করা এবং প্রয়োজনে সাহায্য করার মাধ্যমে এক ধরনের আনন্দ অনুভূত হয়।

ডা. কেরি বার্নাইট মনে করেন, এই চারটি অভ্যাস কেবল মনের জন্যই নয়, শরীরের জন্যও উপকারী। তার নিজের মা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ৯৬ বছর বয়সেও তিনি একা থাকেন, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। ডা. কেরি বলেন, “আমার মা অসুস্থ হয়েছেন এবং স্বামীকে হারিয়েছেন। তবুও তিনি জীবনে সুখী থাকার চেষ্টা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সফল।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ‘জয়স্প্যান’ ধারণাটি আমাদের শেখাচ্ছে যে বার্ধক্য মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়। বরং সঠিক অভ্যাস এবং মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে জীবনের শেষ অধ্যায়ও হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর।