ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইলন মাস্কের গ্রোক এআই দিয়ে নারীর পোশাক সরানোর অভিযোগ

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ব্যবহার করে তার ছবি থেকে ডিজিটালি পোশাক সরিয়ে দেওয়ার পর নিজেকে “অমানবিক ও যৌন স্টেরিওটাইপে পরিণত” করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল গভীরভাবে অপমানজনক ও মানসিকভাবে আঘাতের।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একাধিক ব্যবহারকারী গ্রোককে অনুরোধ করছেন নারীদের পোশাক খুলে তাদের বিকিনি পরা অবস্থায় দেখাতে বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতিতে উপস্থাপন করতে—তাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়াই।

গ্রোকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে বিবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি। বরং একটি স্বয়ংক্রিয় বার্তায় তারা শুধু লিখেছে—“লিগ্যাসি মিডিয়া মিথ্যা বলে।”

ভুক্তভোগী সামান্থা স্মিথ এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, তার ছবি এভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই পোস্টের পর আরও অনেকে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এরপর আবার কিছু ব্যবহারকারী গ্রোককে দিয়ে তার আরও ছবি তৈরির অনুরোধ করেন।

সামান্থা বলেন, “নারীরা এতে কোনোভাবেই সম্মতি দিচ্ছেন না। যদিও ছবিতে নগ্ন অবস্থায় আমি ছিলাম না, তবু সেটি দেখতে আমার মতোই ছিল। অনুভূতিটা এমন ছিল, যেন কেউ সত্যিই আমার নগ্ন বা বিকিনি পরা ছবি প্রকাশ করেছে।”

এদিকে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার ‘নিউডিফিকেশন টুল’ নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়ন করছে। নতুন আইনে এ ধরনের প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম জানিয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্ট দেখার ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। তবে তারা এক্স বা গ্রোকের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও তদন্ত চলছে কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।

গ্রোক একটি বিনামূল্যের এআই সহকারী, যেখানে কিছু প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য অর্থ দিতে হয়। এক্স ব্যবহারকারীরা পোস্টে গ্রোককে ট্যাগ করে প্রশ্ন করলে এটি উত্তর দেয়। পাশাপাশি, গ্রোকের এআই ইমেজ এডিটিং সুবিধা ব্যবহার করে আপলোড করা ছবিও সম্পাদনা করা যায়।

এই এআই টুলটি আগে থেকেই নগ্নতা ও যৌন কনটেন্ট তৈরির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত। এর আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটকে নিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও উঠেছিল।

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ক্লেয়ার ম্যাকগ্লিন বলেন, “এক্স বা গ্রোক চাইলে এই ধরনের নির্যাতন সহজেই বন্ধ করতে পারত।” তার মতে, প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যত দায়মুক্তি ভোগ করছে।

তিনি বলেন, “মাসের পর মাস ধরে এসব ছবি তৈরি ও ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, এক্সএআইয়ের নিজস্ব ‘অ্যাকসেপ্টেবল ইউজ পলিসি’-তে স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনও ব্যক্তির অবয়ব বা চেহারাকে পর্নোগ্রাফিকভাবে উপস্থাপন করা নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অফকম জানিয়েছে, সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি বা শেয়ার করা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার করা আইনত অপরাধ। এতে এআই দিয়ে তৈরি যৌন ডিপফেকও অন্তর্ভুক্ত।

সংস্থাটি আরও জানায়, এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীরা যেন এমন অবৈধ কনটেন্টের মুখোমুখি না হন, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কনটেন্ট শনাক্ত হলে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

ইলন মাস্কের গ্রোক এআই দিয়ে নারীর পোশাক সরানোর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ব্যবহার করে তার ছবি থেকে ডিজিটালি পোশাক সরিয়ে দেওয়ার পর নিজেকে “অমানবিক ও যৌন স্টেরিওটাইপে পরিণত” করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল গভীরভাবে অপমানজনক ও মানসিকভাবে আঘাতের।

বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একাধিক ব্যবহারকারী গ্রোককে অনুরোধ করছেন নারীদের পোশাক খুলে তাদের বিকিনি পরা অবস্থায় দেখাতে বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতিতে উপস্থাপন করতে—তাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়াই।

গ্রোকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে বিবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি। বরং একটি স্বয়ংক্রিয় বার্তায় তারা শুধু লিখেছে—“লিগ্যাসি মিডিয়া মিথ্যা বলে।”

ভুক্তভোগী সামান্থা স্মিথ এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, তার ছবি এভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই পোস্টের পর আরও অনেকে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এরপর আবার কিছু ব্যবহারকারী গ্রোককে দিয়ে তার আরও ছবি তৈরির অনুরোধ করেন।

সামান্থা বলেন, “নারীরা এতে কোনোভাবেই সম্মতি দিচ্ছেন না। যদিও ছবিতে নগ্ন অবস্থায় আমি ছিলাম না, তবু সেটি দেখতে আমার মতোই ছিল। অনুভূতিটা এমন ছিল, যেন কেউ সত্যিই আমার নগ্ন বা বিকিনি পরা ছবি প্রকাশ করেছে।”

এদিকে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার ‘নিউডিফিকেশন টুল’ নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়ন করছে। নতুন আইনে এ ধরনের প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম জানিয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্ট দেখার ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। তবে তারা এক্স বা গ্রোকের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও তদন্ত চলছে কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।

গ্রোক একটি বিনামূল্যের এআই সহকারী, যেখানে কিছু প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য অর্থ দিতে হয়। এক্স ব্যবহারকারীরা পোস্টে গ্রোককে ট্যাগ করে প্রশ্ন করলে এটি উত্তর দেয়। পাশাপাশি, গ্রোকের এআই ইমেজ এডিটিং সুবিধা ব্যবহার করে আপলোড করা ছবিও সম্পাদনা করা যায়।

এই এআই টুলটি আগে থেকেই নগ্নতা ও যৌন কনটেন্ট তৈরির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত। এর আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটকে নিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির অভিযোগও উঠেছিল।

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ক্লেয়ার ম্যাকগ্লিন বলেন, “এক্স বা গ্রোক চাইলে এই ধরনের নির্যাতন সহজেই বন্ধ করতে পারত।” তার মতে, প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যত দায়মুক্তি ভোগ করছে।

তিনি বলেন, “মাসের পর মাস ধরে এসব ছবি তৈরি ও ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, এক্সএআইয়ের নিজস্ব ‘অ্যাকসেপ্টেবল ইউজ পলিসি’-তে স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনও ব্যক্তির অবয়ব বা চেহারাকে পর্নোগ্রাফিকভাবে উপস্থাপন করা নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অফকম জানিয়েছে, সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি বা শেয়ার করা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার করা আইনত অপরাধ। এতে এআই দিয়ে তৈরি যৌন ডিপফেকও অন্তর্ভুক্ত।

সংস্থাটি আরও জানায়, এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীরা যেন এমন অবৈধ কনটেন্টের মুখোমুখি না হন, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কনটেন্ট শনাক্ত হলে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

সূত্র: বিবিসি