ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বছরটা কেমন কাটবে, অস্থিরতায় নাকি ছন্দে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

নতুন বছর মানেই বড় বড় কাজের তালিকা নয়; বরং নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার নীরব সুযোগ। বছরের প্রথম তিন মাসই ঠিক করে দেয়, সামনে সময়টা কীভাবে কাটবে, অস্থিরতায় নাকি ছন্দে। এই সময়টাকে সচেতনভাবে কাজে লাগাতে পারলে পুরো বছরটিই হয়ে উঠতে পারে হালকা, পরিকল্পিত আর ছন্দময়।

জানুয়ারি: থামা, দেখা, বোঝা

নতুন বছরের শুরু মানেই হুড়োহুড়ি করে সব বদলে ফেলার তাড়া। কিন্তু জানুয়ারি আসলে দৌড়ানোর মাস নয়, থামার মাস। গত বছরে কী পেলাম, কী হারালাম, কোথায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি; এই প্রশ্নগুলো নিজের কাছেই আগে পরিষ্কার করা দরকার। অনেক অপ্রয়োজনীয় অভ্যাস, দায় বা সম্পর্ক আমরা শুধু অভ্যস্ত বলেই টেনে নিয়ে চলি। বছরের শুরুতেই সেগুলো ঝেড়ে ফেলতে পারলে মাথা হালকা হয়, সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হয়। জানুয়ারি বড় স্বপ্নের নয়, বরং বাস্তব উপলব্ধির মাস।

ফেব্রুয়ারি: ছন্দ খোঁজার সময়

ফেব্রুয়ারি আসে একটু স্থিরতার বার্তা নিয়ে। এই মাসেই ধীরে ধীরে জীবনে একটা রুটিন তৈরি হয়; কখন ঘুম, কখন কাজ, কখন বিশ্রাম। এই ছন্দটাই পুরো বছরের মেরুদণ্ড। হঠাৎ বড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোট অভ্যাসে মন দেওয়া জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, সময়মতো খাওয়া, অযথা স্ক্রিনটাইম কমানো- এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে। ফেব্রুয়ারি আর্থিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ারও ভালো সময়। এই মাসে খরচের লাগাম ধরতে না পারলে বছরের মাঝামাঝি গিয়ে চাপ বাড়ে।

মার্চ: দিক বদলানোর মাস

মার্চে এসে প্রথমবার বোঝা যায়, আপনার বছরটা কোন পথে যাচ্ছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকর হলো, কোথায় বদল দরকার, সবকিছু পরিষ্কার হতে থাকে ক্রমশ। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত ছিল না। সেটা স্বীকার করে দিক বদল করাই পরিণত মনোভাব। মার্চ শেখায়, পরিকল্পনা মানেই অনড় থাকা নয়; প্রয়োজন হলে নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়াও পরিকল্পনার অংশ।

শরীর ও মন: গুছিয়ে থাকার মূল শক্তি

এই তিন মাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শরীর আর মনের। কাজের চাপ, দায়িত্ব আর প্রত্যাশার ভিড়ে নিজের যত্ন না নিলে পুরো বছরটাই ক্লান্তিতে কেটে যায়। নিয়মিত বিশ্রাম, নিজের পছন্দের কাজ, কাছের মানুষের সঙ্গে সময়- এই ছোট বিষয়গুলোই দীর্ঘ সময় আপনাকে স্থির রাখবে।

বলা দরকার: ধীরে চলাই সবচেয়ে দ্রুত পথ

নতুন বছরের প্রথম তিন মাস কোনও রেস নয়, এটা প্রস্তুতির সময়। এই সময়টা যদি সচেতনভাবে, চাপ না নিয়ে কাটানো যায়, তাহলে বাকি বছর নিজেই একটা ছন্দে চলতে শুরু করে। গুছিয়ে থাকা তখন আলাদা করে চেষ্টা করতে হয় না, জীবন নিজেই ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

বছরটা কেমন কাটবে, অস্থিরতায় নাকি ছন্দে

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছর মানেই বড় বড় কাজের তালিকা নয়; বরং নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার নীরব সুযোগ। বছরের প্রথম তিন মাসই ঠিক করে দেয়, সামনে সময়টা কীভাবে কাটবে, অস্থিরতায় নাকি ছন্দে। এই সময়টাকে সচেতনভাবে কাজে লাগাতে পারলে পুরো বছরটিই হয়ে উঠতে পারে হালকা, পরিকল্পিত আর ছন্দময়।

জানুয়ারি: থামা, দেখা, বোঝা

নতুন বছরের শুরু মানেই হুড়োহুড়ি করে সব বদলে ফেলার তাড়া। কিন্তু জানুয়ারি আসলে দৌড়ানোর মাস নয়, থামার মাস। গত বছরে কী পেলাম, কী হারালাম, কোথায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি; এই প্রশ্নগুলো নিজের কাছেই আগে পরিষ্কার করা দরকার। অনেক অপ্রয়োজনীয় অভ্যাস, দায় বা সম্পর্ক আমরা শুধু অভ্যস্ত বলেই টেনে নিয়ে চলি। বছরের শুরুতেই সেগুলো ঝেড়ে ফেলতে পারলে মাথা হালকা হয়, সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হয়। জানুয়ারি বড় স্বপ্নের নয়, বরং বাস্তব উপলব্ধির মাস।

ফেব্রুয়ারি: ছন্দ খোঁজার সময়

ফেব্রুয়ারি আসে একটু স্থিরতার বার্তা নিয়ে। এই মাসেই ধীরে ধীরে জীবনে একটা রুটিন তৈরি হয়; কখন ঘুম, কখন কাজ, কখন বিশ্রাম। এই ছন্দটাই পুরো বছরের মেরুদণ্ড। হঠাৎ বড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোট অভ্যাসে মন দেওয়া জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, সময়মতো খাওয়া, অযথা স্ক্রিনটাইম কমানো- এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে। ফেব্রুয়ারি আর্থিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ারও ভালো সময়। এই মাসে খরচের লাগাম ধরতে না পারলে বছরের মাঝামাঝি গিয়ে চাপ বাড়ে।

মার্চ: দিক বদলানোর মাস

মার্চে এসে প্রথমবার বোঝা যায়, আপনার বছরটা কোন পথে যাচ্ছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকর হলো, কোথায় বদল দরকার, সবকিছু পরিষ্কার হতে থাকে ক্রমশ। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত ছিল না। সেটা স্বীকার করে দিক বদল করাই পরিণত মনোভাব। মার্চ শেখায়, পরিকল্পনা মানেই অনড় থাকা নয়; প্রয়োজন হলে নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়াও পরিকল্পনার অংশ।

শরীর ও মন: গুছিয়ে থাকার মূল শক্তি

এই তিন মাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শরীর আর মনের। কাজের চাপ, দায়িত্ব আর প্রত্যাশার ভিড়ে নিজের যত্ন না নিলে পুরো বছরটাই ক্লান্তিতে কেটে যায়। নিয়মিত বিশ্রাম, নিজের পছন্দের কাজ, কাছের মানুষের সঙ্গে সময়- এই ছোট বিষয়গুলোই দীর্ঘ সময় আপনাকে স্থির রাখবে।

বলা দরকার: ধীরে চলাই সবচেয়ে দ্রুত পথ

নতুন বছরের প্রথম তিন মাস কোনও রেস নয়, এটা প্রস্তুতির সময়। এই সময়টা যদি সচেতনভাবে, চাপ না নিয়ে কাটানো যায়, তাহলে বাকি বছর নিজেই একটা ছন্দে চলতে শুরু করে। গুছিয়ে থাকা তখন আলাদা করে চেষ্টা করতে হয় না, জীবন নিজেই ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠে।