ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কাউকে দেখলে হালকা হাসুন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রশ্ন

আমার বয়স ২৯। ভালো রেজাল্ট করতে গিয়ে, ক‍্যারিয়ার করতে গিয়ে, আমার মা আমাকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সাথে মিশতে দেননি। এখন আমি ভালো চাকরি করি, বয়স অনুযায়ী আয় অনেক। কিন্তু কারোর সঙ্গেই মিশতে পারি না। কিন্তু মনে হয় অন্যদের মতো আমারও সামাজিক জীবন হোক। কীভাবে নিজের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠবো?

উত্তর

আপনার সমস্যাটি আসলে আমাদের সমাজের অনেক সফল মানুষেরই গল্প। পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের একটা বড় সময় আপনি মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পাননি। এটা আপনার দোষ নয়। তবে আশার কথা হলো, মানুষের সাথে মেলামেশা করা একটা অভ্যাসের মতো, যা প্র্যাকটিস করলে যেকোনও বয়সেই শেখা যায়।

একেবারে সহজভাবে শুরু করার জন্য আপনি নিচের কাজগুলো করতে পারেন:

সালাম বা হাসি দিয়ে শুরু করুন

খুব বড় কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিন পরিচিত বা আধা-পরিচিত (যেমন: অফিসের কলিগ, লিফটের প্রতিবেশী বা দারোয়ান) কাউকে দেখলে হালকা হাসুন এবং সালাম বা কুশল বিনিময় করুন। শুধু ‘কেমন আছেন?’ বা ‘শুভ সকাল’ বলাটাই আড়ষ্টতা কাটানোর প্রথম ধাপ।

‘শ্রোতা’ হোন, ‘বক্তা’ নয়

অনেকে মনে করেন সামাজিক হতে হলে অনর্গল কথা বলতে হয়। আসলে উল্টো! যারা অন্যের কথা মন দিয়ে শোনে, মানুষ তাদের বেশি পছন্দ করে। কেউ কিছু বললে মাথা নেড়ে সায় দিন বা ছোট ছোট প্রশ্ন করুন (যেমন: ‘তারপর কী হলো?’ বা ‘সেটা কীভাবে করলেন?’)। এতে কথা বলার চাপ আপনার ওপর থাকবে না।

অফিসের চা বা লাঞ্চের সময়টা কাজে লাগান

আপনি যেহেতু ভালো চাকরি করেন, অফিসের কলিগদের সাথে মেশা আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ। একা লাঞ্চ না করে সবার সাথে বসার চেষ্টা করুন। শুরুতে কথা বলতে না পারলে চুপচাপ বসে সবার কথা শুনুন। এতে আপনার চারপাশের মানুষের সাথে একটা সহজ সম্পর্ক তৈরি হবে।

পুরানো বন্ধুদের একটু নক করুন

স্কুল বা কলেজের দু-একজন বন্ধু যাদের সাথে আগে যোগাযোগ ছিল, তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে পারেন। ফোনে কথা বলতে জড়তা লাগলে মেসেজ দিন। বলতে পারেন, ‘হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল, কেমন আছো?’ এভাবে পুরানো সম্পর্কগুলো নতুন করে শুরু করা অনেক সহজ।

শখের কোনও ক্লাসে যোগ দিন

আপনার যদি ছবি তোলা, জিম করা বা কোনও কিছু শেখার শখ থাকে, তবে এমন কোনও গ্রুপে যোগ দিন। যখন একই বিষয়ের ওপর মানুষের সাথে কথা বলবেন, তখন কথা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন

নিজেকে খুব বেশি চাপ দেবেন না। লক্ষ্য ঠিক করুন যে, ‘আজ আমি অন্তত একজন নতুন মানুষের সাথে এক মিনিট কথা বলবো।’ ছোট ছোট সাফল্য আপনাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।

মায়ের সাথে বিষয়টি যেভাবে সামলাবেন

আপনার মা আপনার ভালোর জন্যই হয়তো আপনাকে আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন আপনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বাবলম্বী। মাকে বুঝিয়ে বলুন যে, ‘মা, কাজের চাপের পাশাপাশি একটু মানুষের সাথে না মিশলে আমার মন ভালো থাকে না, যা ক্যারিয়ারের জন্যও দরকার।’ তাকে আশ্বস্ত করুন যে আপনি আপনার মূল্যবোধ বজায় রেখেই চলবেন।

মনে রাখবেন

শুরুতে সবারই একটু অস্বস্তি লাগে। প্রথম কয়েকদিন আপনার হয়তো কথা বলতে গিয়ে বুক ধড়ফড় করবে, কিন্তু ৫-৬ বার চেষ্টা করার পর দেখবেন এটি আপনার কাছে একদম স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

প্রশ্ন

আমি একজন ব‍্যাংকার। আমার এক ছেলে, বয়স ১৪, এক মেয়ে বয়স ১১। আমার স্ত্রী চাকরি করতেন, ৫ বছর হলো ছেড়ে দিয়েছেন ছেলেমেয়েদের সময় দেওয়ার জন্য। তিনি গত দুই বছর হলো পরিবার আত্মীয় স্বজন সবাইকে নানাবিধ সন্দেহ করেন। সবাই তার অমঙ্গল চায়, সবাই তাকে ঠকায়, এরকম মনোভাব তৈরি হয়েছে। এটা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা সবাই বিষয়টা নিয়ে বিরক্ত। কী করলে সে এই আচরণ থেকে বের হতে পারবে?

উত্তর

ব্যাংকের ব্যস্ত চাকরির পর ঘরে ফিরে এমন অশান্তি সহ্য করা সত্যিই খুব কষ্টের। তবে আপনার স্ত্রীর এই আচরণটি কোনও সাধারণ রাগ বা জেদ নয়; এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সহজ বাংলায় বলতে গেলে, তিনি হয়তো ‘প্যারানয়া’ (Paranoia) বা এক ধরণের তীব্র সংশয় রোগে ভুগছেন। তিনি যা দেখছেন বা ভাবছেন, সেটা তার কাছে একদম সত্যি মনে হচ্ছে।

নিচে সহজ কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো যা আপনি এখনই শুরু করতে পারেন:

তর্কে যাবেন না (মিথ্যা সান্ত্বনাও দেবেন না)

তিনি যখন কাউকে নিয়ে সন্দেহ করবেন, তখন ‘না, তুমি ভুল বলছো’ বা ‘সবাই কি খারাপ হতে পারে?’—এমন কথা বলবেন না। এতে তিনি ভাববেন আপনিও অন্যদের সাথে মিলে তাকে ঠকাচ্ছেন।

বরং তাকে বলুন, ‘আমি বুঝতে পারছি তুমি নিজেকে নিরাপদ মনে করছো না বা তোমার খুব খারাপ লাগছে।’ তার অনুভূতির সাথে সহমর্মিতা দেখান, কিন্তু তার সন্দেহের কথাকে ‘হ্যাঁ’ বলবেন না।

কেন এমন হচ্ছে তা বুঝুন

আপনার স্ত্রী ৫ বছর আগে চাকরি ছেড়েছেন। ক্যারিয়ার থেকে হঠাৎ ঘরের চারদেয়ালে বন্দী হয়ে যাওয়া এবং সন্তানদের বড় করার চাপে অনেক সময় মানুষের মনে একাকীত্ব আর হতাশা তৈরি হয়। এই একাকীত্ব থেকেই মনের ভেতর আজেবাজে চিন্তা বা সন্দেহ দানা বাঁধে।

ডাক্তারের কাছে নেওয়ার বুদ্ধি

সরাসরি ‘মানসিক ডাক্তার’ বললে তিনি কখনোই যাবেন না। তাই নিচের কৌশলগুলো করতে পারেন:

অন্য সমস্যার কথা বলুন: তাকে বলুন, ‘তোমাকে আজকাল খুব ক্লান্ত লাগছে, রাতে ঘুম হচ্ছে না, চলো একজন নিউরোলজিস্ট বা ভালো মেডিসিন ডাক্তার দেখিয়ে আনি।’

কাউন্সেলিং: তাকে বলতে পারেন, ‘সংসারের চাপে আমরা দুজনেই অনেক স্ট্রেসড, চলো একজন কাউন্সিলরের সাথে কথা বলে আসি যাতে আমাদের সম্পর্কটা আগের মতো সুন্দর হয়।’

অর্থাৎ, দোষটা তার ওপর না চাপিয়ে পুরো পরিবারের ওপর রাখুন।

সন্তানদের আড়াল করুন

আপনার ছেলে এবং মেয়ের বয়স এখন খুব সেনসিটিভ। মায়ের এই সন্দেহবাতিক স্বভাব তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সন্তানদের সাথে আলাদা করে কথা বলুন। তাদের বোঝান যে তাদের মা বর্তমানে একটু অসুস্থ, তাই তিনি এমন কথা বলছেন। এতে সন্তানদের মনে মায়ের প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে না।

বিরক্ত না হয়ে ধৈর্য ধরুন

আপনারা সবাই বিরক্ত হয়ে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তার রোগ আরও বাড়বে। তিনি ভাববেন যে আসলেই সবাই তাকে সহ্য করতে পারছে না। তাকে একটু বেশি সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। ছুটির দিনে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যান যেখানে আত্মীয়-স্বজন থাকবে না, শুধু আপনারা চারজন থাকবেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ যা আপনি করতে পারেন

আপনার স্ত্রীর যদি ছোটবেলার প্রিয় বন্ধু বা এমন কোনও আত্মীয় থাকে যাকে তিনি এখনও পছন্দ করেন, তাকে একটু গোপনে বাসায় ডাকুন। অনেক সময় বাইরের মানুষের সাথে কথা বললে বা মন খুললে এই সমস্যাগুলো কিছুটা হালকা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

কাউকে দেখলে হালকা হাসুন

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রশ্ন

আমার বয়স ২৯। ভালো রেজাল্ট করতে গিয়ে, ক‍্যারিয়ার করতে গিয়ে, আমার মা আমাকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সাথে মিশতে দেননি। এখন আমি ভালো চাকরি করি, বয়স অনুযায়ী আয় অনেক। কিন্তু কারোর সঙ্গেই মিশতে পারি না। কিন্তু মনে হয় অন্যদের মতো আমারও সামাজিক জীবন হোক। কীভাবে নিজের আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠবো?

উত্তর

আপনার সমস্যাটি আসলে আমাদের সমাজের অনেক সফল মানুষেরই গল্প। পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের একটা বড় সময় আপনি মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পাননি। এটা আপনার দোষ নয়। তবে আশার কথা হলো, মানুষের সাথে মেলামেশা করা একটা অভ্যাসের মতো, যা প্র্যাকটিস করলে যেকোনও বয়সেই শেখা যায়।

একেবারে সহজভাবে শুরু করার জন্য আপনি নিচের কাজগুলো করতে পারেন:

সালাম বা হাসি দিয়ে শুরু করুন

খুব বড় কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিন পরিচিত বা আধা-পরিচিত (যেমন: অফিসের কলিগ, লিফটের প্রতিবেশী বা দারোয়ান) কাউকে দেখলে হালকা হাসুন এবং সালাম বা কুশল বিনিময় করুন। শুধু ‘কেমন আছেন?’ বা ‘শুভ সকাল’ বলাটাই আড়ষ্টতা কাটানোর প্রথম ধাপ।

‘শ্রোতা’ হোন, ‘বক্তা’ নয়

অনেকে মনে করেন সামাজিক হতে হলে অনর্গল কথা বলতে হয়। আসলে উল্টো! যারা অন্যের কথা মন দিয়ে শোনে, মানুষ তাদের বেশি পছন্দ করে। কেউ কিছু বললে মাথা নেড়ে সায় দিন বা ছোট ছোট প্রশ্ন করুন (যেমন: ‘তারপর কী হলো?’ বা ‘সেটা কীভাবে করলেন?’)। এতে কথা বলার চাপ আপনার ওপর থাকবে না।

অফিসের চা বা লাঞ্চের সময়টা কাজে লাগান

আপনি যেহেতু ভালো চাকরি করেন, অফিসের কলিগদের সাথে মেশা আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ। একা লাঞ্চ না করে সবার সাথে বসার চেষ্টা করুন। শুরুতে কথা বলতে না পারলে চুপচাপ বসে সবার কথা শুনুন। এতে আপনার চারপাশের মানুষের সাথে একটা সহজ সম্পর্ক তৈরি হবে।

পুরানো বন্ধুদের একটু নক করুন

স্কুল বা কলেজের দু-একজন বন্ধু যাদের সাথে আগে যোগাযোগ ছিল, তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে পারেন। ফোনে কথা বলতে জড়তা লাগলে মেসেজ দিন। বলতে পারেন, ‘হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল, কেমন আছো?’ এভাবে পুরানো সম্পর্কগুলো নতুন করে শুরু করা অনেক সহজ।

শখের কোনও ক্লাসে যোগ দিন

আপনার যদি ছবি তোলা, জিম করা বা কোনও কিছু শেখার শখ থাকে, তবে এমন কোনও গ্রুপে যোগ দিন। যখন একই বিষয়ের ওপর মানুষের সাথে কথা বলবেন, তখন কথা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন

নিজেকে খুব বেশি চাপ দেবেন না। লক্ষ্য ঠিক করুন যে, ‘আজ আমি অন্তত একজন নতুন মানুষের সাথে এক মিনিট কথা বলবো।’ ছোট ছোট সাফল্য আপনাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।

মায়ের সাথে বিষয়টি যেভাবে সামলাবেন

আপনার মা আপনার ভালোর জন্যই হয়তো আপনাকে আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন আপনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বাবলম্বী। মাকে বুঝিয়ে বলুন যে, ‘মা, কাজের চাপের পাশাপাশি একটু মানুষের সাথে না মিশলে আমার মন ভালো থাকে না, যা ক্যারিয়ারের জন্যও দরকার।’ তাকে আশ্বস্ত করুন যে আপনি আপনার মূল্যবোধ বজায় রেখেই চলবেন।

মনে রাখবেন

শুরুতে সবারই একটু অস্বস্তি লাগে। প্রথম কয়েকদিন আপনার হয়তো কথা বলতে গিয়ে বুক ধড়ফড় করবে, কিন্তু ৫-৬ বার চেষ্টা করার পর দেখবেন এটি আপনার কাছে একদম স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

প্রশ্ন

আমি একজন ব‍্যাংকার। আমার এক ছেলে, বয়স ১৪, এক মেয়ে বয়স ১১। আমার স্ত্রী চাকরি করতেন, ৫ বছর হলো ছেড়ে দিয়েছেন ছেলেমেয়েদের সময় দেওয়ার জন্য। তিনি গত দুই বছর হলো পরিবার আত্মীয় স্বজন সবাইকে নানাবিধ সন্দেহ করেন। সবাই তার অমঙ্গল চায়, সবাই তাকে ঠকায়, এরকম মনোভাব তৈরি হয়েছে। এটা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা সবাই বিষয়টা নিয়ে বিরক্ত। কী করলে সে এই আচরণ থেকে বের হতে পারবে?

উত্তর

ব্যাংকের ব্যস্ত চাকরির পর ঘরে ফিরে এমন অশান্তি সহ্য করা সত্যিই খুব কষ্টের। তবে আপনার স্ত্রীর এই আচরণটি কোনও সাধারণ রাগ বা জেদ নয়; এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সহজ বাংলায় বলতে গেলে, তিনি হয়তো ‘প্যারানয়া’ (Paranoia) বা এক ধরণের তীব্র সংশয় রোগে ভুগছেন। তিনি যা দেখছেন বা ভাবছেন, সেটা তার কাছে একদম সত্যি মনে হচ্ছে।

নিচে সহজ কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো যা আপনি এখনই শুরু করতে পারেন:

তর্কে যাবেন না (মিথ্যা সান্ত্বনাও দেবেন না)

তিনি যখন কাউকে নিয়ে সন্দেহ করবেন, তখন ‘না, তুমি ভুল বলছো’ বা ‘সবাই কি খারাপ হতে পারে?’—এমন কথা বলবেন না। এতে তিনি ভাববেন আপনিও অন্যদের সাথে মিলে তাকে ঠকাচ্ছেন।

বরং তাকে বলুন, ‘আমি বুঝতে পারছি তুমি নিজেকে নিরাপদ মনে করছো না বা তোমার খুব খারাপ লাগছে।’ তার অনুভূতির সাথে সহমর্মিতা দেখান, কিন্তু তার সন্দেহের কথাকে ‘হ্যাঁ’ বলবেন না।

কেন এমন হচ্ছে তা বুঝুন

আপনার স্ত্রী ৫ বছর আগে চাকরি ছেড়েছেন। ক্যারিয়ার থেকে হঠাৎ ঘরের চারদেয়ালে বন্দী হয়ে যাওয়া এবং সন্তানদের বড় করার চাপে অনেক সময় মানুষের মনে একাকীত্ব আর হতাশা তৈরি হয়। এই একাকীত্ব থেকেই মনের ভেতর আজেবাজে চিন্তা বা সন্দেহ দানা বাঁধে।

ডাক্তারের কাছে নেওয়ার বুদ্ধি

সরাসরি ‘মানসিক ডাক্তার’ বললে তিনি কখনোই যাবেন না। তাই নিচের কৌশলগুলো করতে পারেন:

অন্য সমস্যার কথা বলুন: তাকে বলুন, ‘তোমাকে আজকাল খুব ক্লান্ত লাগছে, রাতে ঘুম হচ্ছে না, চলো একজন নিউরোলজিস্ট বা ভালো মেডিসিন ডাক্তার দেখিয়ে আনি।’

কাউন্সেলিং: তাকে বলতে পারেন, ‘সংসারের চাপে আমরা দুজনেই অনেক স্ট্রেসড, চলো একজন কাউন্সিলরের সাথে কথা বলে আসি যাতে আমাদের সম্পর্কটা আগের মতো সুন্দর হয়।’

অর্থাৎ, দোষটা তার ওপর না চাপিয়ে পুরো পরিবারের ওপর রাখুন।

সন্তানদের আড়াল করুন

আপনার ছেলে এবং মেয়ের বয়স এখন খুব সেনসিটিভ। মায়ের এই সন্দেহবাতিক স্বভাব তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সন্তানদের সাথে আলাদা করে কথা বলুন। তাদের বোঝান যে তাদের মা বর্তমানে একটু অসুস্থ, তাই তিনি এমন কথা বলছেন। এতে সন্তানদের মনে মায়ের প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে না।

বিরক্ত না হয়ে ধৈর্য ধরুন

আপনারা সবাই বিরক্ত হয়ে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তার রোগ আরও বাড়বে। তিনি ভাববেন যে আসলেই সবাই তাকে সহ্য করতে পারছে না। তাকে একটু বেশি সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। ছুটির দিনে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যান যেখানে আত্মীয়-স্বজন থাকবে না, শুধু আপনারা চারজন থাকবেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ যা আপনি করতে পারেন

আপনার স্ত্রীর যদি ছোটবেলার প্রিয় বন্ধু বা এমন কোনও আত্মীয় থাকে যাকে তিনি এখনও পছন্দ করেন, তাকে একটু গোপনে বাসায় ডাকুন। অনেক সময় বাইরের মানুষের সাথে কথা বললে বা মন খুললে এই সমস্যাগুলো কিছুটা হালকা হয়।