বাংলাদেশে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্ট প্রদান, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসকদের অবহেলার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। সম্প্রতি শিক্ষক ফিরোজা খাতুনের ঘটনাটি এ অরাজকতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। দেশের নামি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ায় তাঁকে চারটি কষ্টদায়ক ক্যামোথেরাপি নিতে হয় এবং স্তন কেটে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভারতে গিয়ে পরীক্ষা করালে জানা যায়, তাঁর শরীরে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্বই নেই। এমন ঘটনা কেবল ফিরোজার একার নয়; রোগ ধরতে না পারা কিংবা ভুল চিকিৎসায় অকালে প্রাণ হারানোর ঘটনা এখন প্রাত্যহিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবায় অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক মনোভাব, জবাবদিহিতার অভাব এবং দুর্বল নজরদারির কারণে রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা একজন রোগীর পেছনে গড়ে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেন, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন। এছাড়া অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ান বা আহনাফ তাহমিদের মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মনে হাসপাতালের প্রতি আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠন ও সুপারিশ করা হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে।
[Image showing a patient’s frustration with medical reports and a long line at a foreign hospital]
এই আস্থার সংকটের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চিকিৎসার নামে প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের রক্তক্ষরণ। বিদেশগামী রোগীদের ৫৩ শতাংশই কেবল সঠিক রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দ্রুত স্বাস্থ্যখাতে কঠোর তদারকি, চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং ভুল চিকিৎসার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এ খাতকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
রিপোর্টারের নাম 

























