গত বছরের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছরেও অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে তাদের বিগত ১৫ বছরের হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অপরাধের উপলব্ধি বা দায় স্বীকারে বাধ্য করতে পারেনি। বক্তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তর্নিহিত দুর্বলতার কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব জুলাই-আগস্টের শহীদদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
বক্তার প্রশ্ন, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মধ্যে কি কোনো ‘ভূতের কারসাজি’ ছিল? ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিপদ এখনো কাটেনি এবং এটি সম্ভবত নির্বাচন ভণ্ডুল করার চক্রান্তের অংশ। প্রকাশ্যে দিবালোকে এই হত্যাচেষ্টা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নির্দেশ করে। বক্তার মতে, আগস্ট-পূর্ববর্তী পুলিশের নৈতিক মনোবল ভেঙে পড়েছে, কারণ তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং দোদুল্যমানচিত্তে কর্তব্য পালন করছে; গত ১৬ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে গোছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিদ্যমান ছোট-বড় প্রতিটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দল ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না। ইতিমধ্যে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ ৩৩টি দলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই সনদ-২০২৫’ ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে ঢিমেতালে চলায় ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ প্রলম্বিত হওয়ার যে আশঙ্কা ছিল, তা তারেক রহমানের মধ্যস্থতায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কেটে গেলেও, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বক্তা আরও মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগের অপরাধের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করার বদলে বিএনপি তাদের প্রতি আপসমূলক ও নমনীয় মনোভাব পোষণ করেছে। রাজনৈতিক মাঠে এখন দুই বড় পক্ষ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকায় তারা প্রথমবারের মতো জামায়াতের বিরুদ্ধে এমন ভাষা ব্যবহার করছে, যা আগে আওয়ামী লীগ করত। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে তাদের মধ্যে সৃষ্ট এই টানাপোড়েনের সুযোগ নেবে আওয়ামী লীগের সুযোগসন্ধানীরা।
রিপোর্টারের নাম 

























