ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জনশক্তি রপ্তানি খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো জনশক্তি রপ্তানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও প্রতারণা, যেখানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েকটি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর থাকেন এবং তাদের যোগসাজশে এজেন্সিগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

বিএমইটির বহির্গমন শাখা ‘রেসট্রিকটেড এরিয়া’ হিসেবে ঘোষিত হলেও অনুসন্ধান অনুযায়ী, অফিসের নির্ধারিত সময় শেষ হতেই চিত্র বদলে যায়। সন্ধ্যা নামতেই অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা অবাধে প্রবেশ করে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসে নিজেরাই ফাইল অনুমোদন করান।

এমনকি এক দিনে ৭৯টি ফাইল অনুমোদন এবং জাল ও এডিটেড পাসপোর্ট দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। টি-২০ ওভারসিজের নুরজাহান আক্তার ও দি ইফতি ওভারসিজের মো. রুবেলকে এই অসাধু সিন্ডিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের অবাধ যাতায়াত ও প্রভাবের কারণে অন্যান্য এজেন্সি নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।

সরকারি সার্ভারে অসাধু চক্রের অবাধ প্রবেশ থাকায় নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনিরাপদ হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিজান সলিউশন সার্ভিসের মতো যেসব এজেন্সির কর্মী পাঠানোর অনুমোদন নেই, তারাও অসংখ্য শ্রমিক পাঠিয়েছে।

গত ২৯ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিএমইটিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়ে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে নারীদের পাচার এবং ২৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএমইটিতে আমূল সংস্কার না করলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না এবং বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দুর্ভোগও কমবে না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘চরম সন্ধিক্ষণে’ ডেনমার্ক: ট্রাম্পের হুমকির মুখে অনড় ফ্রেডেরিকসেন

জনশক্তি রপ্তানি খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি

আপডেট সময় : ০১:০২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো জনশক্তি রপ্তানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও প্রতারণা, যেখানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েকটি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর থাকেন এবং তাদের যোগসাজশে এজেন্সিগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

বিএমইটির বহির্গমন শাখা ‘রেসট্রিকটেড এরিয়া’ হিসেবে ঘোষিত হলেও অনুসন্ধান অনুযায়ী, অফিসের নির্ধারিত সময় শেষ হতেই চিত্র বদলে যায়। সন্ধ্যা নামতেই অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা অবাধে প্রবেশ করে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসে নিজেরাই ফাইল অনুমোদন করান।

এমনকি এক দিনে ৭৯টি ফাইল অনুমোদন এবং জাল ও এডিটেড পাসপোর্ট দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। টি-২০ ওভারসিজের নুরজাহান আক্তার ও দি ইফতি ওভারসিজের মো. রুবেলকে এই অসাধু সিন্ডিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের অবাধ যাতায়াত ও প্রভাবের কারণে অন্যান্য এজেন্সি নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।

সরকারি সার্ভারে অসাধু চক্রের অবাধ প্রবেশ থাকায় নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনিরাপদ হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিজান সলিউশন সার্ভিসের মতো যেসব এজেন্সির কর্মী পাঠানোর অনুমোদন নেই, তারাও অসংখ্য শ্রমিক পাঠিয়েছে।

গত ২৯ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিএমইটিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়ে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে নারীদের পাচার এবং ২৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএমইটিতে আমূল সংস্কার না করলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না এবং বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দুর্ভোগও কমবে না।