ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকায় খুনের ঘটনা বৃদ্ধি, আতঙ্কিত নগরবাসী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাত বাড়লেই যেন অপরাধীদের মহোৎসব শুরু হয়, এমন পরিস্থিতিতেও প্রয়োজনের তাগিদে নাগরিকদের ঝুঁকি নিয়েই বাইরে বের হতে হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ তার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বললেও, অপরাধ বিশেষজ্ঞরা এই সহিংসতা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিচারহীনতাকে দায়ী করছেন।

৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ঢাকা শহর নানা অসংগতিতে তার তিলোত্তমা তকমা বহু আগেই হারিয়েছে। জনঘনত্বের এই শহরটি ক্রমশই আতঙ্কের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, যেখানে পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড বাহিনী আবার বিস্তৃত হচ্ছে। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুন শব্দটি যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। শত্রুতা, পূর্বপরিকল্পিত আধিপত্য বিস্তার, রাজনীতি, প্রেম, আর্থিক দেনা-পাওনা, কলহ, চাঁদাবাজি, বিরোধীমত দমন এবং দখলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মানুষ নির্মমভাবে একে অপরের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এর ফলস্বরূপ বাবা-মা তার সন্তানকে হারাচ্ছেন, আবার কখনো সন্তান হচ্ছে পিতৃহারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, এপ্রিলে ৩৮টি, মে মাসে ৩৪১টি এবং জুনে তা বেড়ে ৩৪টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ১০ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেল এক দশকের মধ্যে চলতি বছরে দেশে দৈনিক গড়ে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে দৈনিক গড়ের খুন ছিল ৮ থেকে ১০-এর মধ্যে, কিন্তু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুনের সংখ্যা ২৯১১টি হওয়ায় দৈনিক খুনের গড় সংখ্যা বেড়ে ১১-তে দাঁড়িয়েছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী জানান, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিএমপি তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, নগরবাসী মনে করছেন মানুষ দিন দিন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠছে এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, রাত ১০টার পর বাইরে চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে, এমনকি রিকশাওয়ালারাও রেহাই পান না, তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক মনে করেন, সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো দুর্বল আইনের শাসন ও বিচারহীনতা। তার মতে, আগে যে ভিক্টিম ছিল, এখন সে শক্তিশালী, আর আগে যে অপরাধী ছিল, সে এখন দুর্বল। সেক্ষেত্রে আগে যে দুর্বল ছিল এখন শক্তিশালী হয়েছে, সে তো প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কাউকে হত্যা করা বা কোনো কিছু দখল করলে মামলা হবে কি না, বা মামলা হলেও গ্রেপ্তার হবে কি না, সেই অনিশ্চয়তার কারণে অপরাধীরা অপরাধ করার ‘সময়’টিকে কাজে লাগাচ্ছে। নিহতদের স্বজনরা বুড়িগঙ্গার সমতল অঞ্চলের শহর ঢাকা থেকে খুন শব্দটি মুছে যাক এবং মানুষের মধ্যে স্থিরতা ও সহমর্মিতা ফিরে আসুক এমনটাই দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সহিংসতায় প্রাণহানি: দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

ঢাকায় খুনের ঘটনা বৃদ্ধি, আতঙ্কিত নগরবাসী

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাত বাড়লেই যেন অপরাধীদের মহোৎসব শুরু হয়, এমন পরিস্থিতিতেও প্রয়োজনের তাগিদে নাগরিকদের ঝুঁকি নিয়েই বাইরে বের হতে হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ তার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বললেও, অপরাধ বিশেষজ্ঞরা এই সহিংসতা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিচারহীনতাকে দায়ী করছেন।

৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ঢাকা শহর নানা অসংগতিতে তার তিলোত্তমা তকমা বহু আগেই হারিয়েছে। জনঘনত্বের এই শহরটি ক্রমশই আতঙ্কের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, যেখানে পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড বাহিনী আবার বিস্তৃত হচ্ছে। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুন শব্দটি যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। শত্রুতা, পূর্বপরিকল্পিত আধিপত্য বিস্তার, রাজনীতি, প্রেম, আর্থিক দেনা-পাওনা, কলহ, চাঁদাবাজি, বিরোধীমত দমন এবং দখলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মানুষ নির্মমভাবে একে অপরের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এর ফলস্বরূপ বাবা-মা তার সন্তানকে হারাচ্ছেন, আবার কখনো সন্তান হচ্ছে পিতৃহারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, এপ্রিলে ৩৮টি, মে মাসে ৩৪১টি এবং জুনে তা বেড়ে ৩৪টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ১০ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেল এক দশকের মধ্যে চলতি বছরে দেশে দৈনিক গড়ে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে দৈনিক গড়ের খুন ছিল ৮ থেকে ১০-এর মধ্যে, কিন্তু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুনের সংখ্যা ২৯১১টি হওয়ায় দৈনিক খুনের গড় সংখ্যা বেড়ে ১১-তে দাঁড়িয়েছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী জানান, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিএমপি তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, নগরবাসী মনে করছেন মানুষ দিন দিন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠছে এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, রাত ১০টার পর বাইরে চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে, এমনকি রিকশাওয়ালারাও রেহাই পান না, তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক মনে করেন, সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো দুর্বল আইনের শাসন ও বিচারহীনতা। তার মতে, আগে যে ভিক্টিম ছিল, এখন সে শক্তিশালী, আর আগে যে অপরাধী ছিল, সে এখন দুর্বল। সেক্ষেত্রে আগে যে দুর্বল ছিল এখন শক্তিশালী হয়েছে, সে তো প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কাউকে হত্যা করা বা কোনো কিছু দখল করলে মামলা হবে কি না, বা মামলা হলেও গ্রেপ্তার হবে কি না, সেই অনিশ্চয়তার কারণে অপরাধীরা অপরাধ করার ‘সময়’টিকে কাজে লাগাচ্ছে। নিহতদের স্বজনরা বুড়িগঙ্গার সমতল অঞ্চলের শহর ঢাকা থেকে খুন শব্দটি মুছে যাক এবং মানুষের মধ্যে স্থিরতা ও সহমর্মিতা ফিরে আসুক এমনটাই দাবি জানিয়েছেন।