ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আড়ালে আল্লাহর সতর্কবার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীতে ভূমিকম্পসহ নানা বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে এবং অনেক মানুষ নিহত হন। অন্যান্য দুর্যোগের আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া গেলেও ভূমিকম্প প্রায়ই হঠাৎ আসে, যা ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভূমিকম্প শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে গভীর সতর্কবার্তা। এমন সময় মানুষের করণীয় হলো তাওবা করা, আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া, বেশি ইস্তিগফার পড়া এবং তাঁর স্মরণে ব্যস্ত থাকা।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব রাতারাতি তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা ঘুমে নিমগ্ন থাকবে?’ (আরাফ: ৯)। আরও বলা হয়েছে, ‘তোমাদের ওপর যত বিপদ আসে, তা তোমাদের নিজেদের কর্মফলের কারণে; আর আল্লাহ অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’ (শুরা: ৩০)

কোরআনে ভূমিকম্প বোঝাতে ‘যিলযাল’ (কম্পনে কম্পন সৃষ্টি) এবং ‘দাক্কা’ (প্রচণ্ড অভিঘাতে কেঁপে ওঠা) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের সম্মুখীন হবে, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে এবং মদপান বাড়বে।’ (তিরমিজি: ২২১২)

কিয়ামত যত ঘনিয়ে আসবে ভূমিকম্পও তত বাড়বে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন ভয়াবহ হবে।’ (হজ: ১-২)

হাদিসে ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে—অবৈধ সম্পদ অর্জন, আমানতের খিয়ানত, জাকাতকে জরিমানা মনে করা, ধর্মহীন শিক্ষা, আত্মীয়তার অবহেলা, মসজিদে অশালীন আচরণ এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেয়া। (তিরমিজি: ১৪৪৭)

সুতরাং বর্তমানের ভূমিকম্প শুধু ভূগর্ভস্থ প্লেট সরে যাওয়ার ফল নয়; বরং মানুষের পাপাচার ও অবাধ্যতার কারণে আল্লাহর সতর্কবার্তা হিসেবে আসে। ইতিহাসেও দেখা যায় অনেক জাতিকে আল্লাহ ভূমিকম্পে ধ্বংস করেছেন। তাই প্রতিটি কম্পন আমাদের মনে করিয়ে দেয়আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং তাঁর রহমত ও নিরাপত্তার জন্য হৃদয় জাগ্রত করা জরুরি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে সু চির সাবেক আসনে জয়ী জান্তা সমর্থিত দল ইউএসডিপি

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আড়ালে আল্লাহর সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

পৃথিবীতে ভূমিকম্পসহ নানা বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে এবং অনেক মানুষ নিহত হন। অন্যান্য দুর্যোগের আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া গেলেও ভূমিকম্প প্রায়ই হঠাৎ আসে, যা ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভূমিকম্প শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে গভীর সতর্কবার্তা। এমন সময় মানুষের করণীয় হলো তাওবা করা, আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া, বেশি ইস্তিগফার পড়া এবং তাঁর স্মরণে ব্যস্ত থাকা।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব রাতারাতি তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা ঘুমে নিমগ্ন থাকবে?’ (আরাফ: ৯)। আরও বলা হয়েছে, ‘তোমাদের ওপর যত বিপদ আসে, তা তোমাদের নিজেদের কর্মফলের কারণে; আর আল্লাহ অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।’ (শুরা: ৩০)

কোরআনে ভূমিকম্প বোঝাতে ‘যিলযাল’ (কম্পনে কম্পন সৃষ্টি) এবং ‘দাক্কা’ (প্রচণ্ড অভিঘাতে কেঁপে ওঠা) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের সম্মুখীন হবে, যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে এবং মদপান বাড়বে।’ (তিরমিজি: ২২১২)

কিয়ামত যত ঘনিয়ে আসবে ভূমিকম্পও তত বাড়বে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন ভয়াবহ হবে।’ (হজ: ১-২)

হাদিসে ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে—অবৈধ সম্পদ অর্জন, আমানতের খিয়ানত, জাকাতকে জরিমানা মনে করা, ধর্মহীন শিক্ষা, আত্মীয়তার অবহেলা, মসজিদে অশালীন আচরণ এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেয়া। (তিরমিজি: ১৪৪৭)

সুতরাং বর্তমানের ভূমিকম্প শুধু ভূগর্ভস্থ প্লেট সরে যাওয়ার ফল নয়; বরং মানুষের পাপাচার ও অবাধ্যতার কারণে আল্লাহর সতর্কবার্তা হিসেবে আসে। ইতিহাসেও দেখা যায় অনেক জাতিকে আল্লাহ ভূমিকম্পে ধ্বংস করেছেন। তাই প্রতিটি কম্পন আমাদের মনে করিয়ে দেয়আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং তাঁর রহমত ও নিরাপত্তার জন্য হৃদয় জাগ্রত করা জরুরি।