ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে শেখ হাসিনার আইনি মর্যাদা নিয়ে অমিত শাহকে অভিষেকের তুখোড় প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘকালীন অবস্থান এবং তার আইনি মর্যাদা নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নজিরবিহীন ও তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন পরিচয়ে অবস্থান করছেন—তিনি কি একজন শরণার্থী নাকি তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্যই জনগণের কাছে এই স্ট্যাটাস বা মর্যাদার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। তৃণমূলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে সরাসরি এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবারই প্রথম সামনে এল।

বক্তব্য চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন যেখানে শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হওয়ার চেয়ে দিল্লি বা গুজরাট থেকে পরিচালিত হওয়া শ্রেয়। এই মন্তব্যের পাল্টায় অভিষেক প্রশ্ন তোলেন যে, যদি বিজেপি সত্যিই মনে করে বাংলা বাংলাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, তবে কেন তারা গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লির সুরক্ষিত পরিবেশে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। তিনি মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা প্রকৃত স্বার্থ ও উদ্দেশ্য নিয়েও জনসমক্ষে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত সরকার কার্যকর কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই প্রশ্নও তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন যে, গত ১০ বছর ধরে অনুপ্রবেশের দোহাই দেওয়া হলেও কাশ্মীর বা দিল্লির মতো সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষায় বিজেপি সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার এবং বাংলা ভাষায় কথা বললে জেলে ভরার হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। অভিষেক অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কেবল বাঙালি বিরোধী মনোভাবই পোষণ করছে না, বরং যারা বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তাদেরই পুরস্কৃত করছে। এনআরসি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আসামে এনআরসির মাধ্যমে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে, বিজেপি একই নীল নকশা পশ্চিমবঙ্গেও বাস্তবায়ন করতে চায়, যা তৃণমূল সরকার থাকতে কখনোই সম্ভব হবে না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

ভারতে শেখ হাসিনার আইনি মর্যাদা নিয়ে অমিত শাহকে অভিষেকের তুখোড় প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘকালীন অবস্থান এবং তার আইনি মর্যাদা নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নজিরবিহীন ও তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন পরিচয়ে অবস্থান করছেন—তিনি কি একজন শরণার্থী নাকি তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্যই জনগণের কাছে এই স্ট্যাটাস বা মর্যাদার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। তৃণমূলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে সরাসরি এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবারই প্রথম সামনে এল।

বক্তব্য চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন যেখানে শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হওয়ার চেয়ে দিল্লি বা গুজরাট থেকে পরিচালিত হওয়া শ্রেয়। এই মন্তব্যের পাল্টায় অভিষেক প্রশ্ন তোলেন যে, যদি বিজেপি সত্যিই মনে করে বাংলা বাংলাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, তবে কেন তারা গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লির সুরক্ষিত পরিবেশে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। তিনি মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা প্রকৃত স্বার্থ ও উদ্দেশ্য নিয়েও জনসমক্ষে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত সরকার কার্যকর কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই প্রশ্নও তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন যে, গত ১০ বছর ধরে অনুপ্রবেশের দোহাই দেওয়া হলেও কাশ্মীর বা দিল্লির মতো সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষায় বিজেপি সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার এবং বাংলা ভাষায় কথা বললে জেলে ভরার হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। অভিষেক অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কেবল বাঙালি বিরোধী মনোভাবই পোষণ করছে না, বরং যারা বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তাদেরই পুরস্কৃত করছে। এনআরসি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আসামে এনআরসির মাধ্যমে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে, বিজেপি একই নীল নকশা পশ্চিমবঙ্গেও বাস্তবায়ন করতে চায়, যা তৃণমূল সরকার থাকতে কখনোই সম্ভব হবে না।