ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের এক মাস: দৃশ্যত শান্ত হলেও কাটেনি ইয়াছিন বাহিনীর ‘অদৃশ্য’ আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের ‘নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ পর পেরিয়েছে এক মাস। গত ৯ মার্চ যৌথবাহিনীর ওই অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ১২ জনকে আটকের তথ্য দিয়েছিল জেলা পুলিশ। কিন্তু সরকারি জমি বিক্রি, পাহাড় কাটা, সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজিসহ সেখানকার যাবতীয় অপরাধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইয়াছিন রয়ে গেছেন অধরা।

অভিযানের পর থেকে জঙ্গল ছলিমপুরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা প্রশাসন বললেও স্থানীয়রা বলছেন উল্টো। তাদের দাবি, এখনও ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ রয়ে গেছে দখলদারদের হাতে। ফলে প্রশাসন যতই বলুক ছলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আর নেই, তবু ভয় ও উৎকণ্ঠা তাদের পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে আলীনগরে অভিযানের এক মাস পরও ইয়াছিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকার কেউ সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গল ছলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা কয়েকটি ‘সমাজে’ বিভিক্ত হয়ে একাধিক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে আলীনগরের ‘রাজা’ এখনো ইয়াছিন। এলাকার ‘অদৃশ্য’ নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার এই প্রধান আসামির হাতে।

গত ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে অভিযানে যায় জঙ্গল ছলিমপুরে। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এরপর সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিষোদ্গার করে বক্তব্য দিতে দেখা যায় ইয়াছিনকে; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসেছে।

ওই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর জঙ্গল ছলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনী-বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এর পর থেকে এলাকা ছাড়া ইয়াছিন ও তার অনুসারীরা।

অভিযানের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি ও বর্তমানে র‌্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেছিলেন, “২০০৩ সাল থেকে প্রায় ৩১ শ একর খাস জমির আনুমানিক ৩৪টি পাহাড় কেটে লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে জমি ক্রয় বিক্রয়, নিজস্ব রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে কীভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ জঙ্গল ছলিমপুর।”

প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা দুর্গম স্থান এই ছলিমপুর।

স্থানীয় লোকজনদের ভাষ্য, ২০০২-০৩ সাল থেকে সেখানে বসতি শুরু হয়। জঙ্গল ছলিমপুরের পুরো ছিন্নমূল এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয়েছে ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য। আর আলীনগর এলাকাটি ‘আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হলেও তার পুরা নিয়ন্ত্রণ ইয়াছিনের হাতে। মূলত এই সমিতি দেখাশোনা করেন ইয়াছিনের ছোট ভাই ওমর ফারুক ও ভাগ্নে আনোয়ার। এছাড়া রয়েছেন নুরুল হক ভান্ডারী, মোর্শেদ, কালা ফারুক, মেহেদী হাসান নামে আরও কয়েকজন। যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর তারাও সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, একসময় জঙ্গল ছলিমপুরের ওই অংশে এসে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। তবে বর্তমানে সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও জায়গা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছে সরকারি কর্মকর্তারাও। মঙ্গলবার ছলিমপুরে গেলে স্থানীয়রা বলেন, ছিন্নমূল এলাকার গলাচিপা পাহাড় পার হয়ে আগে একটি বড় লোহার গেট ছিল। আগে বহিরাগত কেউ ওই গেটের ভেতর যেতে পারত না। এলাকার নিয়ন্ত্রকদের ছিল নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী। তবে গত মাসে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর গেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশের সময় কোন বাধার মুখোমুখি হতে হয়নি। আলীনগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে আলাপ হয়। তারা ব্যঙ্গ করে বলেন, এই এলাকায় কোন দল বা প্রশাসন নেই। কোন চুরি চামারিও নাই। আলী নগরের ‘রাজা’ একজনই, তার নাম ইয়াছিন। আলীনগরের সবকিছু এখনো চলে ইয়াছিনের ‘ইশারায়’। আলীনগরের এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি সেখানে বসবাস করছেন। এক লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি প্লট কিনেছিলেন। তবে সেই কেনাবেচার কোনো কাগজপত্র নেই। ইয়াছিনের মুখের কথাই সব।

ওই ব্যক্তি বলেন, আলীনগরে প্লটগুলো হিসেব করা হয় চার গণ্ডায় (আট শতক)। প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয় অবস্থান বুঝে। বর্তমানে সড়কের পাশের প্লট বিক্রি হচ্ছে ৩০ লাখ টাকায়। যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই সেসব পাহাড় টিলা কেনাবেচা হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। সেখানে নিজের উদ্যোগে পাহাড় কেটে সমতল করে নিতে হয়।”

আলীনগর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পাহাড় কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। ভেতরে ভেতরে করা হয়েছে বিভিন্ন সড়ক। বিভিন্ন প্লটের সামনে সাইন বোর্ড দিয়ে ব্যক্তির নাম, জায়গার বিএস খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান নম্বর লেখা আছে। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটের সেসব খতিয়ানের একটিরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা গেল, এসব পাহাড় কাটা ও জমি বিক্রি হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযানের আগে। ইয়াছিনের লোকজন এসব খতিয়ান নম্বর দিয়ে থাকে। নম্বরগুলো আসল নাকি নকল সেটি কেউ জানে না এবং যাচাইও করে না।

যেভাবে হয় জায়গা বন্দোবস্ত ও সেবা বিল প্রদান

স্থানীয়রা জানান, দেড়-দুই লাখ থেকে শুরু করে ৩০ লাখ টাকায় প্লটের ‘দখল শর্ত’ কেনাবেচা হয় আলীনগরে। পরে সেটির ‘রেজিস্ট্রি’ নিতে হয় ইয়াসিনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকায়। সরকারিভাবে জায়গার নিবন্ধন নিতে যত তথ্যের প্রয়োজন হয়, এখানে তার কিছুই দরকার হয় না। ইয়াছিনের ‘মর্জিমাফিক’ সব দিতে হয়। তবে গত এক মাসে কোনো জমি কেনাবেচা হয়নি।

যেসব প্লটের লোকজন এলাকায় বসবাস করেন, তাদের প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে সমিতির তহবিলে জমা দিতে হয়। যেসব প্লটের দখলদারদার সেখানে অবস্থান করেন না, তাদের মাসে দিতে হয় ১০০ টাকা করে। এছাড়া সমিতিকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতিটি আবাসিকে দিতে হয় প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৩ টাকা করে।

ছলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় ৫টি ও আলীনগরের ৩টি বিদ্যুতের মিটার থেকে সাব মিটার করে বিভিন্ন বসতঘর ও দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। আলীনগরের বাসিন্দারা ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণাধীন সমিতিতে এবং ছিন্নমূল এলাকার লোকজন ‘সমাজের’ সমিতিতে বিল পরিশোধ করেন। সে হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ছিন্নমূলের সমিতির নেতাদের ও আলী নগরের ইয়াছিনের পকেটে যায় মাসে কয়েক লাখ টাকা।

এছাড়া একদিন পরপর বিভিন্ন বসত ঘরে পানি দেওয়া হয়। যাদের ঘরে এক হাজার লিটারের পানির ট্যাঙ্ক আছে, তাদের মাসিক পানির বিল দিতে হয় ১৫০০ টাকা; আর অন্যদের দিতে হয় ৮০০ টাকা করে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিমাসে তারা বিদ্যুৎ ও পানির বিল নিজেরাই গিয়ে সমিতিতে জমা দিয়ে আসেন।

ইয়াছিন এলাকায় নাই, কারা পরিচালনা করে আলীনগরের সমিতি? এ প্রশ্নে স্থানীয়রা বললেন, ইয়াছিনের ছোট ভাই ওমর ফারুক এগুলো আগে দেখাশোনা করতেন। সমিতিতে কোনো পুরুষ কর্মচারী নেই। স্থানীয় কিছু নারী কর্মী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

গত এক মাসেও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন বিলের টাকা আগের মতই সমিতির নারী কর্মীদের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সে টাকা এরপর কোথায় গেছে তা কেউ জানেন না। এ বিষয়ে সমিতির কোনো নারী কর্মীও কথা বলেননি। আলীনগরের ভেতরে গেলে এখনো চোখে পড়বে ‘আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড। যেখানে লেখা আছে বসবাসকারীদের জন্য শর্তাবলী। তবে সমিতির অধীনে কত সদস্য আছে, তার প্রকৃত হিসেব কারো কাছে নেই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বছরখানেক আগে ইয়াছিনের কাছ থেকে তারা জেনেছেন আলীনগরে ৬০ হাজার প্লট আছে। বিভিন্নজনের কাছে একাধিক প্লট থাকলেও প্রতি প্লটের মালিক হিসেবে ৬০ হাজার সদস্য আছে সমিতিতে।

আলী নগরের ‘রাজা’

স্থানীয়রা জানান, একসময় আমিন টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ইয়াসিন। ছিন্নমূল এলাকার নেতা আলী আক্কাসের সঙ্গে ছলিমপুরে আসেন তিনি। এরপর আক্কাস ছিন্নমূলের নিয়ন্ত্রণ নিলে ইয়াসিন নেন আলীনগরের নিয়ন্ত্রণ।ছলিমপুরের পাহাড়ে এই অবৈধ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০০৪ সালে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১০ সালে স্থানীয় লাল বাদশা ও আক্কাসের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওই বছরের ২৩ মে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ আক্কাস নিহত হন। এরপর ছিন্নমূল এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ‘সমাজের’ বিভিন্ন জনের কাছে। তবে আলীনগরে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরো পোক্ত করেন ইয়াছিন। মঙ্গলবার এলাকার একটি চায়ের দোকানে কথা হচ্ছিল স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের একজন বললেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে যে কথা বলছি, খবর নিয়ে দেখেন সেই তথ্যও চলে গেছে ইয়াছিনের কাছে।“এ এলাকায় কে আসবে যাবে সবকিছুই ইয়াছিনের ওপর নির্ভর করে। তার অনুমতি মিললে কেউ আলীনগরে প্রবেশ করতে পারে, থাকতে পারে। আবার সে না চাইলে কেউ থাকতে পারবে না। এক কথায় আলীনগরে ইয়াছিন ছাড়া কোনো ‘রাজা’ নাই।”

এক মাস ধরে ইয়াছিন এলাকায় নাই, তারপরও কেন এত ভয়?

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসন কয় দিন থাকবে? দেখা যাবে ইয়াছিনরা তারা আবার ফিরে আসবে। তখন তো আর কাউকে এলাকায় থাকতে দেবে না। আগেও ইয়াছিন প্রশাসনের ভয়ে এভাবে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন।

যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা ‘বড়’ কেউ না দাবি করে কয়েকজন বললেন, ‘আসল’ কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযানের দিন ভয়ে যারা দৌঁড়ে ছিল, তাদেরই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।মাটিকাটা, জমি বিক্রিসহ বিভিন্নভাবে এখনো ইয়াছিনের পকেটে কোটি কোটি টাকা ঢুকছে বলে দাবি তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি হলেও আলীনগরে সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে না। কারণ এখানে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে আছে ইয়াছিন। দোকান খোলা রেখে গেলেও কেউ কিছুই ধরে না।

সুপারিশের অপেক্ষায় প্রশাসন

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়া উদ্দিন বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা কয়েকটি বৈঠকে বসেছি এবং সেখানে (ছলিমপুর) রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। বিভিন্ন দপ্তর যারা সেখানে জায়গা চেয়েছিল, তাদের বর্তমানে সে সক্ষমতা আছে কি না সেটা দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

“তারা কাজ করছে এবং আমাদের একটা সুপারিশ দেবে। জেলা প্রশাসকের কমিটির সুপারিশ পেলেই সলিমপুরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।” জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগরে পুলিশ এবং এপিবিএনের স্থায়ী ক্যাম্প করার কথা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “তাদের আবাসনের জন্যও আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সেটা দ্রুত সময়ে হয়ে যাবে। আমি নিজেই মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি বরাদ্দ ছাড় পাওয়ার জন্য।”

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় এখন কোনো সন্ত্রাসী নেই। সেখানে যৌথবাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে এক লাখের মত বাসিন্দা রয়েছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব তো আমাদের। যার কারণে সেখান থেকে ক্যাম্প প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। “জায়গাগুলোর যাতে মিসইউজ না হয়, জনগণ যাতে ভালোভাবে থাকতে পারে সে জন্য ছলিপুর নিয়ে সরকারের একটা মহাপরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্যাম্প সেখানে থাকবে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের ইউ-টার্ন

জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের এক মাস: দৃশ্যত শান্ত হলেও কাটেনি ইয়াছিন বাহিনীর ‘অদৃশ্য’ আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১১:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের ‘নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ পর পেরিয়েছে এক মাস। গত ৯ মার্চ যৌথবাহিনীর ওই অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ১২ জনকে আটকের তথ্য দিয়েছিল জেলা পুলিশ। কিন্তু সরকারি জমি বিক্রি, পাহাড় কাটা, সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজিসহ সেখানকার যাবতীয় অপরাধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইয়াছিন রয়ে গেছেন অধরা।

অভিযানের পর থেকে জঙ্গল ছলিমপুরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা প্রশাসন বললেও স্থানীয়রা বলছেন উল্টো। তাদের দাবি, এখনও ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ রয়ে গেছে দখলদারদের হাতে। ফলে প্রশাসন যতই বলুক ছলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আর নেই, তবু ভয় ও উৎকণ্ঠা তাদের পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে আলীনগরে অভিযানের এক মাস পরও ইয়াছিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকার কেউ সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গল ছলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা কয়েকটি ‘সমাজে’ বিভিক্ত হয়ে একাধিক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে আলীনগরের ‘রাজা’ এখনো ইয়াছিন। এলাকার ‘অদৃশ্য’ নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার এই প্রধান আসামির হাতে।

গত ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে অভিযানে যায় জঙ্গল ছলিমপুরে। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এরপর সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিষোদ্গার করে বক্তব্য দিতে দেখা যায় ইয়াছিনকে; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসেছে।

ওই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর জঙ্গল ছলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনী-বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এর পর থেকে এলাকা ছাড়া ইয়াছিন ও তার অনুসারীরা।

অভিযানের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি ও বর্তমানে র‌্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেছিলেন, “২০০৩ সাল থেকে প্রায় ৩১ শ একর খাস জমির আনুমানিক ৩৪টি পাহাড় কেটে লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে জমি ক্রয় বিক্রয়, নিজস্ব রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে কীভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ জঙ্গল ছলিমপুর।”

প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা দুর্গম স্থান এই ছলিমপুর।

স্থানীয় লোকজনদের ভাষ্য, ২০০২-০৩ সাল থেকে সেখানে বসতি শুরু হয়। জঙ্গল ছলিমপুরের পুরো ছিন্নমূল এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয়েছে ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য। আর আলীনগর এলাকাটি ‘আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হলেও তার পুরা নিয়ন্ত্রণ ইয়াছিনের হাতে। মূলত এই সমিতি দেখাশোনা করেন ইয়াছিনের ছোট ভাই ওমর ফারুক ও ভাগ্নে আনোয়ার। এছাড়া রয়েছেন নুরুল হক ভান্ডারী, মোর্শেদ, কালা ফারুক, মেহেদী হাসান নামে আরও কয়েকজন। যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর তারাও সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, একসময় জঙ্গল ছলিমপুরের ওই অংশে এসে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। তবে বর্তমানে সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও জায়গা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছে সরকারি কর্মকর্তারাও। মঙ্গলবার ছলিমপুরে গেলে স্থানীয়রা বলেন, ছিন্নমূল এলাকার গলাচিপা পাহাড় পার হয়ে আগে একটি বড় লোহার গেট ছিল। আগে বহিরাগত কেউ ওই গেটের ভেতর যেতে পারত না। এলাকার নিয়ন্ত্রকদের ছিল নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী। তবে গত মাসে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর গেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশের সময় কোন বাধার মুখোমুখি হতে হয়নি। আলীনগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে আলাপ হয়। তারা ব্যঙ্গ করে বলেন, এই এলাকায় কোন দল বা প্রশাসন নেই। কোন চুরি চামারিও নাই। আলী নগরের ‘রাজা’ একজনই, তার নাম ইয়াছিন। আলীনগরের সবকিছু এখনো চলে ইয়াছিনের ‘ইশারায়’। আলীনগরের এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি সেখানে বসবাস করছেন। এক লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি প্লট কিনেছিলেন। তবে সেই কেনাবেচার কোনো কাগজপত্র নেই। ইয়াছিনের মুখের কথাই সব।

ওই ব্যক্তি বলেন, আলীনগরে প্লটগুলো হিসেব করা হয় চার গণ্ডায় (আট শতক)। প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয় অবস্থান বুঝে। বর্তমানে সড়কের পাশের প্লট বিক্রি হচ্ছে ৩০ লাখ টাকায়। যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই সেসব পাহাড় টিলা কেনাবেচা হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। সেখানে নিজের উদ্যোগে পাহাড় কেটে সমতল করে নিতে হয়।”

আলীনগর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পাহাড় কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। ভেতরে ভেতরে করা হয়েছে বিভিন্ন সড়ক। বিভিন্ন প্লটের সামনে সাইন বোর্ড দিয়ে ব্যক্তির নাম, জায়গার বিএস খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান নম্বর লেখা আছে। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটের সেসব খতিয়ানের একটিরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা গেল, এসব পাহাড় কাটা ও জমি বিক্রি হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযানের আগে। ইয়াছিনের লোকজন এসব খতিয়ান নম্বর দিয়ে থাকে। নম্বরগুলো আসল নাকি নকল সেটি কেউ জানে না এবং যাচাইও করে না।

যেভাবে হয় জায়গা বন্দোবস্ত ও সেবা বিল প্রদান

স্থানীয়রা জানান, দেড়-দুই লাখ থেকে শুরু করে ৩০ লাখ টাকায় প্লটের ‘দখল শর্ত’ কেনাবেচা হয় আলীনগরে। পরে সেটির ‘রেজিস্ট্রি’ নিতে হয় ইয়াসিনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকায়। সরকারিভাবে জায়গার নিবন্ধন নিতে যত তথ্যের প্রয়োজন হয়, এখানে তার কিছুই দরকার হয় না। ইয়াছিনের ‘মর্জিমাফিক’ সব দিতে হয়। তবে গত এক মাসে কোনো জমি কেনাবেচা হয়নি।

যেসব প্লটের লোকজন এলাকায় বসবাস করেন, তাদের প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে সমিতির তহবিলে জমা দিতে হয়। যেসব প্লটের দখলদারদার সেখানে অবস্থান করেন না, তাদের মাসে দিতে হয় ১০০ টাকা করে। এছাড়া সমিতিকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতিটি আবাসিকে দিতে হয় প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৩ টাকা করে।

ছলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় ৫টি ও আলীনগরের ৩টি বিদ্যুতের মিটার থেকে সাব মিটার করে বিভিন্ন বসতঘর ও দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। আলীনগরের বাসিন্দারা ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণাধীন সমিতিতে এবং ছিন্নমূল এলাকার লোকজন ‘সমাজের’ সমিতিতে বিল পরিশোধ করেন। সে হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ছিন্নমূলের সমিতির নেতাদের ও আলী নগরের ইয়াছিনের পকেটে যায় মাসে কয়েক লাখ টাকা।

এছাড়া একদিন পরপর বিভিন্ন বসত ঘরে পানি দেওয়া হয়। যাদের ঘরে এক হাজার লিটারের পানির ট্যাঙ্ক আছে, তাদের মাসিক পানির বিল দিতে হয় ১৫০০ টাকা; আর অন্যদের দিতে হয় ৮০০ টাকা করে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিমাসে তারা বিদ্যুৎ ও পানির বিল নিজেরাই গিয়ে সমিতিতে জমা দিয়ে আসেন।

ইয়াছিন এলাকায় নাই, কারা পরিচালনা করে আলীনগরের সমিতি? এ প্রশ্নে স্থানীয়রা বললেন, ইয়াছিনের ছোট ভাই ওমর ফারুক এগুলো আগে দেখাশোনা করতেন। সমিতিতে কোনো পুরুষ কর্মচারী নেই। স্থানীয় কিছু নারী কর্মী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

গত এক মাসেও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন বিলের টাকা আগের মতই সমিতির নারী কর্মীদের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে সে টাকা এরপর কোথায় গেছে তা কেউ জানেন না। এ বিষয়ে সমিতির কোনো নারী কর্মীও কথা বলেননি। আলীনগরের ভেতরে গেলে এখনো চোখে পড়বে ‘আলীনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড। যেখানে লেখা আছে বসবাসকারীদের জন্য শর্তাবলী। তবে সমিতির অধীনে কত সদস্য আছে, তার প্রকৃত হিসেব কারো কাছে নেই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বছরখানেক আগে ইয়াছিনের কাছ থেকে তারা জেনেছেন আলীনগরে ৬০ হাজার প্লট আছে। বিভিন্নজনের কাছে একাধিক প্লট থাকলেও প্রতি প্লটের মালিক হিসেবে ৬০ হাজার সদস্য আছে সমিতিতে।

আলী নগরের ‘রাজা’

স্থানীয়রা জানান, একসময় আমিন টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ইয়াসিন। ছিন্নমূল এলাকার নেতা আলী আক্কাসের সঙ্গে ছলিমপুরে আসেন তিনি। এরপর আক্কাস ছিন্নমূলের নিয়ন্ত্রণ নিলে ইয়াসিন নেন আলীনগরের নিয়ন্ত্রণ।ছলিমপুরের পাহাড়ে এই অবৈধ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০০৪ সালে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১০ সালে স্থানীয় লাল বাদশা ও আক্কাসের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওই বছরের ২৩ মে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ আক্কাস নিহত হন। এরপর ছিন্নমূল এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ‘সমাজের’ বিভিন্ন জনের কাছে। তবে আলীনগরে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরো পোক্ত করেন ইয়াছিন। মঙ্গলবার এলাকার একটি চায়ের দোকানে কথা হচ্ছিল স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের একজন বললেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে যে কথা বলছি, খবর নিয়ে দেখেন সেই তথ্যও চলে গেছে ইয়াছিনের কাছে।“এ এলাকায় কে আসবে যাবে সবকিছুই ইয়াছিনের ওপর নির্ভর করে। তার অনুমতি মিললে কেউ আলীনগরে প্রবেশ করতে পারে, থাকতে পারে। আবার সে না চাইলে কেউ থাকতে পারবে না। এক কথায় আলীনগরে ইয়াছিন ছাড়া কোনো ‘রাজা’ নাই।”

এক মাস ধরে ইয়াছিন এলাকায় নাই, তারপরও কেন এত ভয়?

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসন কয় দিন থাকবে? দেখা যাবে ইয়াছিনরা তারা আবার ফিরে আসবে। তখন তো আর কাউকে এলাকায় থাকতে দেবে না। আগেও ইয়াছিন প্রশাসনের ভয়ে এভাবে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন।

যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা ‘বড়’ কেউ না দাবি করে কয়েকজন বললেন, ‘আসল’ কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযানের দিন ভয়ে যারা দৌঁড়ে ছিল, তাদেরই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।মাটিকাটা, জমি বিক্রিসহ বিভিন্নভাবে এখনো ইয়াছিনের পকেটে কোটি কোটি টাকা ঢুকছে বলে দাবি তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি হলেও আলীনগরে সে ধরনের কোন ঘটনা ঘটে না। কারণ এখানে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে আছে ইয়াছিন। দোকান খোলা রেখে গেলেও কেউ কিছুই ধরে না।

সুপারিশের অপেক্ষায় প্রশাসন

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়া উদ্দিন বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা কয়েকটি বৈঠকে বসেছি এবং সেখানে (ছলিমপুর) রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। বিভিন্ন দপ্তর যারা সেখানে জায়গা চেয়েছিল, তাদের বর্তমানে সে সক্ষমতা আছে কি না সেটা দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

“তারা কাজ করছে এবং আমাদের একটা সুপারিশ দেবে। জেলা প্রশাসকের কমিটির সুপারিশ পেলেই সলিমপুরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।” জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগরে পুলিশ এবং এপিবিএনের স্থায়ী ক্যাম্প করার কথা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “তাদের আবাসনের জন্যও আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সেটা দ্রুত সময়ে হয়ে যাবে। আমি নিজেই মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি বরাদ্দ ছাড় পাওয়ার জন্য।”

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় এখন কোনো সন্ত্রাসী নেই। সেখানে যৌথবাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে এক লাখের মত বাসিন্দা রয়েছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব তো আমাদের। যার কারণে সেখান থেকে ক্যাম্প প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। “জায়গাগুলোর যাতে মিসইউজ না হয়, জনগণ যাতে ভালোভাবে থাকতে পারে সে জন্য ছলিপুর নিয়ে সরকারের একটা মহাপরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্যাম্প সেখানে থাকবে।”