ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে স্থানীয় সরকার বিল পাস: বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ বিশেষ পরিস্থিতিতে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে চারটি পৃথক বিল পাস করেছে। এই বিধান নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি থাকলেও তা কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

এছাড়াও, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি ছিল না। দলীয় প্রতীকের নির্বাচন বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বিলও বৃহস্পতিবার পাস হয়েছে। মূলত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আলাদা অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘উপযুক্ত ব্যক্তিকে’ প্রশাসক নিয়োগের বিধান যোগ করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করার জন্য বৃহস্পতিবার সংসদে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) (সংশোধন) বিল এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল পাস হয়।

প্রশাসক নিয়োগের বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সিটি করপোরেশন (সংশোধন) বিলে এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, এটি একটি কালো আইন হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বলতে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন বা অবৈধ সুবিধা না দিলে অপসারণ করা বোঝাবে কিনা, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। তিনি একে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবেও উল্লেখ করেন।

জেলা পরিষদ সংশোধন বিলে আপত্তি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক বলেন, বিলের সংশোধনীটি সংবিধানের তিনটি ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি একাধিক মামলার রায় উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। স্থিতিশীল সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে, যা সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য একটি ক্লাব তৈরি করছে।

প্রতিটি বিলের বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে স্থানীয় সরকার বিল পাস: বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদ বিশেষ পরিস্থিতিতে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে চারটি পৃথক বিল পাস করেছে। এই বিধান নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি থাকলেও তা কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

এছাড়াও, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি ছিল না। দলীয় প্রতীকের নির্বাচন বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বিলও বৃহস্পতিবার পাস হয়েছে। মূলত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আলাদা অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘উপযুক্ত ব্যক্তিকে’ প্রশাসক নিয়োগের বিধান যোগ করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করার জন্য বৃহস্পতিবার সংসদে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) (সংশোধন) বিল এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল পাস হয়।

প্রশাসক নিয়োগের বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সিটি করপোরেশন (সংশোধন) বিলে এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, এটি একটি কালো আইন হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বলতে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন বা অবৈধ সুবিধা না দিলে অপসারণ করা বোঝাবে কিনা, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই। তিনি একে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবেও উল্লেখ করেন।

জেলা পরিষদ সংশোধন বিলে আপত্তি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক বলেন, বিলের সংশোধনীটি সংবিধানের তিনটি ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি একাধিক মামলার রায় উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। স্থিতিশীল সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে, যা সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য একটি ক্লাব তৈরি করছে।

প্রতিটি বিলের বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বক্তব্য রাখেন।