ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র যেসব যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সামরিক শক্তিতে দানবীয় হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি যুদ্ধে নৈতিক ও কৌশলগতভাবে পরাজিত হয়েছে। সর্বশেষ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মুখেও যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে দেখা গেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রতিরোধ ও বিভিন্ন কৌশলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে হার মানতে হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের অন্যতম উদাহরণ হলো আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার। প্রায় দুই দশক ধরে যুদ্ধ চালানোর পরও তালেবানদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয় দেশটি। একইভাবে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরাজয় ছিল। ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন করলেও কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের অগ্রগতি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল দেশটিকে কমিউনিস্ট উত্তর ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দক্ষিণে বিভক্ত করার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র ‘ডোমিনো থিওরি’র আশঙ্কায় ছিল যে একটি দেশ কমিউনিস্ট হলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও একই পথে যাবে। এই ধারণা থেকেই তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে ভিয়েতনামের গেরিলা কৌশল, দুর্গম জঙ্গলভিত্তিক যুদ্ধ এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। আধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী এসব কৌশলের কার্যকর মোকাবিলা করতে পারেনি।

দীর্ঘ যুদ্ধ, হাজার হাজার সৈন্যের মৃত্যু এবং বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তীব্র যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকে উস্কে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরু করে এবং ১৯৭৫ সালে উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী রাজধানী সাইগন দখল করে নেয়। এর ফলে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতন ঘটে এবং পুরো দেশ কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কিছু সাফল্য পেলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ভিয়েতনাম যুদ্ধকে একটি বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র যেসব যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে

আপডেট সময় : ০৪:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সামরিক শক্তিতে দানবীয় হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি যুদ্ধে নৈতিক ও কৌশলগতভাবে পরাজিত হয়েছে। সর্বশেষ ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মুখেও যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে দেখা গেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রতিরোধ ও বিভিন্ন কৌশলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে হার মানতে হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের অন্যতম উদাহরণ হলো আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার। প্রায় দুই দশক ধরে যুদ্ধ চালানোর পরও তালেবানদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয় দেশটি। একইভাবে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরাজয় ছিল। ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন করলেও কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের অগ্রগতি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল দেশটিকে কমিউনিস্ট উত্তর ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দক্ষিণে বিভক্ত করার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র ‘ডোমিনো থিওরি’র আশঙ্কায় ছিল যে একটি দেশ কমিউনিস্ট হলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও একই পথে যাবে। এই ধারণা থেকেই তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে ভিয়েতনামের গেরিলা কৌশল, দুর্গম জঙ্গলভিত্তিক যুদ্ধ এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। আধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী এসব কৌশলের কার্যকর মোকাবিলা করতে পারেনি।

দীর্ঘ যুদ্ধ, হাজার হাজার সৈন্যের মৃত্যু এবং বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তীব্র যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকে উস্কে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরু করে এবং ১৯৭৫ সালে উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী রাজধানী সাইগন দখল করে নেয়। এর ফলে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতন ঘটে এবং পুরো দেশ কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কিছু সাফল্য পেলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ভিয়েতনাম যুদ্ধকে একটি বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হয়।