ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রেশনিংয়ের ফাঁদে জ্বালানি তেল: পাম্পে ‘নাই’ সাইনবোর্ড, জনজীবনে ত্রাহি অবস্থা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করায় দেশের অর্ধেকেরও বেশি ফিলিং স্টেশন দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তেলের অভাবে একদিকে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন যে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটার কোনো লক্ষণ নেই।

চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৮৩টি পাম্পের অর্ধেকের বেশিই এখন তেলশূন্য অবস্থায় রয়েছে। নগরের ৬২টি পাম্পের বেশিরভাগের সামনেই ‘অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। যমুনা অয়েলের ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ তেল আসায় বিক্রয় শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ফুরিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজশাহীর চিত্র আরও ভয়াবহ; সেখানে ৪৬টি পাম্পের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৮ থেকে ১০টি। তেলের জন্য কৃষকরা শ্যালো মেশিন নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন এবং মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। খুলনা থেকে রাজশাহী রেলওয়ের ডিপোতে তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সড়কপথে সিরাজগঞ্জ থেকে তেল আনতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়ে গেছে প্রায় তিনগুণ।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাতেও একই হাহাকার বিরাজ করছে। সেখানে পাম্পগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাই বন্ধ থাকছে এবং ডিজেল সংকটে ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। খোলা বাজারে ২০০ লিটার ডিজেলের ড্রাম সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। রংপুর বিভাগে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ১০ লাখ লিটার হলেও সরবরাহ মিলছে অনেক কম। ফলে বোরো চাষিরা সেচ দিতে না পেরে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। যদিও বিভাগীয় কমিশনাররা কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তবুও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে যে চাহিদার তুলনায় যোগান অত্যন্ত সীমিত।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

রেশনিংয়ের ফাঁদে জ্বালানি তেল: পাম্পে ‘নাই’ সাইনবোর্ড, জনজীবনে ত্রাহি অবস্থা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করায় দেশের অর্ধেকেরও বেশি ফিলিং স্টেশন দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তেলের অভাবে একদিকে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন যে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটার কোনো লক্ষণ নেই।

চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৮৩টি পাম্পের অর্ধেকের বেশিই এখন তেলশূন্য অবস্থায় রয়েছে। নগরের ৬২টি পাম্পের বেশিরভাগের সামনেই ‘অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। যমুনা অয়েলের ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ তেল আসায় বিক্রয় শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ফুরিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজশাহীর চিত্র আরও ভয়াবহ; সেখানে ৪৬টি পাম্পের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৮ থেকে ১০টি। তেলের জন্য কৃষকরা শ্যালো মেশিন নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন এবং মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। খুলনা থেকে রাজশাহী রেলওয়ের ডিপোতে তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সড়কপথে সিরাজগঞ্জ থেকে তেল আনতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়ে গেছে প্রায় তিনগুণ।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাতেও একই হাহাকার বিরাজ করছে। সেখানে পাম্পগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাই বন্ধ থাকছে এবং ডিজেল সংকটে ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। খোলা বাজারে ২০০ লিটার ডিজেলের ড্রাম সরকারি মূল্যের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। রংপুর বিভাগে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ১০ লাখ লিটার হলেও সরবরাহ মিলছে অনেক কম। ফলে বোরো চাষিরা সেচ দিতে না পেরে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। যদিও বিভাগীয় কমিশনাররা কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তবুও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে যে চাহিদার তুলনায় যোগান অত্যন্ত সীমিত।