ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কাগজে-কলমে সরকারি দর, বাজারে এলপিজি সিন্ডিকেটের দাপট: দিশেহারা ভোক্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। গত বৃহস্পতিবার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাস্তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ২১০০ থেকে ২২০০ টাকার নিচে মিলছে না রান্নার এই অতিপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার দাম বাড়ানোর ফলে উল্টো বিক্রেতাদের ‘গ্যাস আছে-নেই’ লুকোচুরি এবং অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাজারের এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ে খুচরা বিক্রেতা, ডিলার এবং আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলছে একে অপরকে দোষারোপের পালা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তাঁরা ডিলারদের কাছ থেকেই সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক দাবি করেছেন, কোনো কোম্পানিই নির্ধারিত দামের বাইরে গ্যাস বিক্রি করছে না। তাঁর মতে, মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিলারদের কারসাজি এবং মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে বাজারের এই অস্থিরতা কাটছে না। তিনি আরও জানান, ১৭টি কারখানায় সঠিক তদারকি ও ৫ জন অসাধু ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিইআরসি-র ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ও ‘আইন লঙ্ঘন’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও গণশুনানি ছাড়া প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি নিজেই অপরাধ করছে। বিইআরসি আইনের ৪২ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্সধারীদের শাস্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও সংস্থাটি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অবশ্য বাজারের নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পের সংকট সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবে সামনে আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে বসে এই ‘চ্যালেঞ্জিং’ পরিস্থিতি সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

কাগজে-কলমে সরকারি দর, বাজারে এলপিজি সিন্ডিকেটের দাপট: দিশেহারা ভোক্তা

আপডেট সময় : ১২:০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। গত বৃহস্পতিবার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাস্তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ২১০০ থেকে ২২০০ টাকার নিচে মিলছে না রান্নার এই অতিপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার দাম বাড়ানোর ফলে উল্টো বিক্রেতাদের ‘গ্যাস আছে-নেই’ লুকোচুরি এবং অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাজারের এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ে খুচরা বিক্রেতা, ডিলার এবং আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলছে একে অপরকে দোষারোপের পালা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তাঁরা ডিলারদের কাছ থেকেই সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক দাবি করেছেন, কোনো কোম্পানিই নির্ধারিত দামের বাইরে গ্যাস বিক্রি করছে না। তাঁর মতে, মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিলারদের কারসাজি এবং মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে বাজারের এই অস্থিরতা কাটছে না। তিনি আরও জানান, ১৭টি কারখানায় সঠিক তদারকি ও ৫ জন অসাধু ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিইআরসি-র ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ও ‘আইন লঙ্ঘন’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও গণশুনানি ছাড়া প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি নিজেই অপরাধ করছে। বিইআরসি আইনের ৪২ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্সধারীদের শাস্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও সংস্থাটি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অবশ্য বাজারের নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পের সংকট সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবে সামনে আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে বসে এই ‘চ্যালেঞ্জিং’ পরিস্থিতি সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।