শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত হয়েই অনলাইনে ক্লাস নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, শিক্ষকদের স্মার্ট ক্লাসরুম ব্যবহার করে অনলাইনে শিক্ষাদান করতে হবে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হলে সহকর্মীদের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারবেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রায় ৪০০ জন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একযোগে সব স্কুলে নয়, বরং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর মতো সক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ—সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে, পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে বলে শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























