ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান: সাইফুল হক

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি থেকে অবিলম্বে সরে আসা হয়। তিনি বলেন, দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হলো কঠোর গোপনীয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি- বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সাইফুল হক আরও বলেন, বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় শতভাগ নম্বর পেতে হবে। দ্রুত রাজনৈতিক ও জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, বিএনপির হাতে জাতীয় অর্জনের যে তিনটি ট্রফি রয়েছে, সরকারের উচিত তার মর্যাদা রক্ষা করা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে কেন এই বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলো, তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সাইফুল হক বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অন্যায্য হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকেও মেনে চলতে হবে এবং আমদানি করা মার্কিন কোনো পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষা করা যাবে না। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত হবে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গৃহীত সীমান্ত বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশকেও ‘পরিপূরক বিধিনিষেধ’ গ্রহণ করতে হবে। এর অর্থ হলো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যেকোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান: সাইফুল হক

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন অন্যায্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি থেকে অবিলম্বে সরে আসা হয়। তিনি বলেন, দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হলো কঠোর গোপনীয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষর করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি- বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সাইফুল হক আরও বলেন, বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় শতভাগ নম্বর পেতে হবে। দ্রুত রাজনৈতিক ও জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, বিএনপির হাতে জাতীয় অর্জনের যে তিনটি ট্রফি রয়েছে, সরকারের উচিত তার মর্যাদা রক্ষা করা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে কেন এই বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলো, তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সাইফুল হক বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অন্যায্য হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকেও মেনে চলতে হবে এবং আমদানি করা মার্কিন কোনো পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষা করা যাবে না। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত হবে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গৃহীত সীমান্ত বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশকেও ‘পরিপূরক বিধিনিষেধ’ গ্রহণ করতে হবে। এর অর্থ হলো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা যেকোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়বে।