ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মনিপুরী মৈথৈ সম্প্রদায়ের ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শুরু: ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউনেস্কো ও জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত কালচারাল কমপ্লেক্সে তিন দিনব্যাপী মনিপুরী মৈথৈ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় এবং আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে এটি সমাপ্ত হবে।

এই উৎসবে দেশের বরেণ্য শিল্পী ও গবেষকদের পাশাপাশি ভারতের মণিপুর থেকেও একদল শিল্পী, কলাকুশলী এবং গবেষক অংশগ্রহণ করছেন। ‘লাই হারাওবা’ স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের সদস্য সচিব ওইমান লানথই এবং স্টিয়ারিং কমিটির আহব্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) জানান, বাংলাদেশি মনিপুরিদের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘লাই হারাওবা’কে সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতায় রয়েছে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ পৌরৈঅপোকপা মরূপধর্মীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা এবং সাধন বাংলাদেশ।

‘লাই হারাওবা’ মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব, যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। এটি সৃষ্টি, দিব্য সত্তা, বিশ্বতত্ত্ব এবং সম্প্রীতির এক গভীর উদযাপন। এই উৎসব জটিল ও অনন্য আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, মন্ত্র পাঠ (লাইপৌ) এবং মাইবী জাগোই-এর মতো স্বতন্ত্র নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আয়োজক কমিটি এই উৎসবকে সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের চেতনায় লালিত বাংলাদেশের বর্ণময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে মনিপুরি সম্প্রদায়ের অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আয়োজক কমিটি সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যাতে উৎসবটি সকলের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উৎসবটি চিরাচরিত রীতি ও প্রথাগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি মণিপুরি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। এই উৎসবটি ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়-ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উৎসবটি সফল করতে এবং মনিপুরিদের এই বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সকলের সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

মনিপুরী মৈথৈ সম্প্রদায়ের ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শুরু: ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউনেস্কো ও জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত কালচারাল কমপ্লেক্সে তিন দিনব্যাপী মনিপুরী মৈথৈ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় এবং আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে এটি সমাপ্ত হবে।

এই উৎসবে দেশের বরেণ্য শিল্পী ও গবেষকদের পাশাপাশি ভারতের মণিপুর থেকেও একদল শিল্পী, কলাকুশলী এবং গবেষক অংশগ্রহণ করছেন। ‘লাই হারাওবা’ স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের সদস্য সচিব ওইমান লানথই এবং স্টিয়ারিং কমিটির আহব্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) জানান, বাংলাদেশি মনিপুরিদের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘লাই হারাওবা’কে সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতায় রয়েছে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ পৌরৈঅপোকপা মরূপধর্মীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা এবং সাধন বাংলাদেশ।

‘লাই হারাওবা’ মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব, যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। এটি সৃষ্টি, দিব্য সত্তা, বিশ্বতত্ত্ব এবং সম্প্রীতির এক গভীর উদযাপন। এই উৎসব জটিল ও অনন্য আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, মন্ত্র পাঠ (লাইপৌ) এবং মাইবী জাগোই-এর মতো স্বতন্ত্র নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আয়োজক কমিটি এই উৎসবকে সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের চেতনায় লালিত বাংলাদেশের বর্ণময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে মনিপুরি সম্প্রদায়ের অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আয়োজক কমিটি সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যাতে উৎসবটি সকলের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উৎসবটি চিরাচরিত রীতি ও প্রথাগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি মণিপুরি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। এই উৎসবটি ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়-ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উৎসবটি সফল করতে এবং মনিপুরিদের এই বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সকলের সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে।