সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার একাধিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) বাংলাদেশের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজানুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুত্বর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৮২৬/১ এস সংলগ্ন এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভারতীয় ভূখণ্ডের সামান্য অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি মিজানুরের কাঁধে বিদ্ধ হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে এলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠায়। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। গত মার্চ মাসেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর আগে ২০০৮ এবং ২০১১ সালেও বিএসএফ ও বিজিবি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছিল। তা সত্ত্বেও একের পর এক সীমান্ত হত্যা ও আহতের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-চীন সীমান্তেও দিনের পর দিন এমন বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা ঘটে না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান না হলে এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে বা জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক জানিয়েছেন, নিরীহ কৃষকের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে দুই দেশের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভারতের এমন একতরফা আক্রমণ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 



















