দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি গত বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বাড়লেও সরবরাহ সংকটের কারণে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোও সীমিতভাবে গ্যাস সরবরাহ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেড় থেকে দুই লাখ এলপিজিচালিত যানবাহনের চালকরা। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ৩০টি অপারেটরের মধ্যে মাত্র ৬-৭টি নিয়মিত আমদানি করছে। গ্যাসের অভাবে অনেক চালক সিএনজি বা অকটেনের দিকে ঝুঁকছেন, যা অন্য জ্বালানির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এনবিআরের তথ্যমতে, মার্চ মাসে ২ লাখ ১১ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও ডিলার পর্যায়ে মজুদদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট ও চড়া দাম বিরাজ করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো এলপিজির দাম ৪৪ শতাংশ বাড়ানোয় দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। বিইআরসি এপ্রিল মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করলেও বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৭২৮ টাকা নির্ধারিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ২,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের চাপ কমাতে সরকার ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। ঢাকা ও কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, যা জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে আমদানিতে জোর দিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়া থেকে ৫১ হাজার টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়লেও দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনে আগামী মাসে তেলের দাম সমন্বয় করা হতে পারে। তবে ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে মোংলা বন্দরে লাইটার জাহাজগুলো তেলের অভাবে অচল হয়ে পড়ায় পণ্য পরিবহনে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অবৈধ মজুদ ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যশোরে অভিযান চালিয়ে হাজার লিটার ডিজেল জব্দ ও জরিমানা করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















