দেশে সম্প্রতি হাম বা Measles রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা Measles virus দ্বারা সংঘটিত হয়। এটিকে সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে অবহেলা করলে তা মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
হামের সংক্রমণ মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বদ্ধ পরিবেশে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই আক্রান্ত শিশুকে স্কুল বা জনসমাগমে পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিশুদের মধ্যে আলো সহ্য করতে না পারা এবং মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো টিকাদান। শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে এমআর/এমএমআর টিকার দুটি ডোজ গ্রহণ করা জরুরি। যদি কোনো শিশুর টিকা বাদ পড়ে, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে তা সম্পন্ন করতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্তত চার-পাঁচ দিন অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে জটিলতা কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, বিশেষ করে ডাবের পানি পান করা, আক্রান্ত শিশুর কাপড় ও বিছানা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অপুষ্ট শিশুদের জন্য হাম বিশেষভাবে মারাত্মক হতে পারে এবং এটি নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের ক্ষতি), ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ইপিআই (EPI) টিকাদানে ঘাটতি এবং টিকা বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি। বেসরকারি হাসপাতালেও এমএমআর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়, যা হাম ছাড়াও মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার করার জন্য কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















